‘নিজের কাছে আমি পরিষ্কার, আমার আগে পর্তুগালের কোনো ট্রফি ছিল না’

‘নিজের কাছে আমি পরিষ্কার, আমার আগে পর্তুগালের কোনো ট্রফি ছিল না’
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে পর্তুগাল। আর সেই সঙ্গে শেষ হয়েছে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম উজ্জ্বল এক বিশ্বকাপ অধ্যায়। ডালাসে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মিকেল মেরিনোর যোগ করা সময়ের গোলে হারের পর মিক্সড জোনে এসে প্রথমবারের মতো নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। সেখানেই ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকা নিশ্চিত করেন, এটিই ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ।

ম্যাচ শেষে হতাশা লুকাননি পর্তুগাল অধিনায়ক। তবে নিজের পারফরম্যান্স কিংবা চেষ্টা নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।

 

রোনালদো বলেন, "বিশ্বকাপ থেকে এভাবে বিদায় নেওয়াটা অবশ্যই কষ্টের। আমি আমার সবটুকু দিয়েছি। নিজের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছি। তাই আমি পরিষ্কার বিবেক নিয়েই বিদায় নিচ্ছি। ফুটবল এমনই-কখনও জয় আসে, কখনও পরাজয়। এটা মেনে নিয়েই সামনে এগোতে হয়। হ্যাঁ, এটিই ছিল আমার শেষ বিশ্বকাপ।"

 

তবে বিশ্বকাপকে বিদায় বললেও জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চান না পর্তুগিজ কিংবদন্তি। তিনি জানিয়েছেন, আবেগের মুহূর্তে তাড়াহুড়া করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইচ্ছা নেই।

 

রোনালদো বলেন, "এখন আমার কিছুটা সময় দরকার। পরিবারের সঙ্গে থাকব, সবকিছু ভেবে দেখব। আমি কখনো আবেগের বশে সিদ্ধান্ত নিই না। কী হবে, সেটা পরে সিদ্ধান্ত নেব।"

 

স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ম্যাচটি দুই দিকেই যেতে পারত। তাঁর মতে, শেষ পর্যন্ত ভাগ্যটাই স্পেনের পক্ষে ছিল।

 

রোনালদো বলেন, "আমার মনে হয়েছে স্পেন কিছুটা ভাগ্যবান ছিল। ম্যাচটি যেকোনো দলই জিততে পারত। খুব ছোট ছোট মুহূর্তই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।"

 

এই বিশ্বকাপে রোনালদো নতুন ইতিহাসও গড়েছেন। ২০০৬ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত টানা ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া এবং ছয়টি বিশ্বকাপেই গোল করা প্রথম ফুটবলার তিনি। চলতি আসরে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে দুটি এবং ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে একটি গোল করেন তিনি। সেই ক্রোয়েশিয়া ম্যাচেই বিশ্বকাপ নকআউট পর্বে নিজের প্রথম গোলের স্বাদ পান পর্তুগিজ অধিনায়ক।

 

সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১-তে। ছয়টি বিশ্বকাপে ২৮টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি, যা বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম দীর্ঘ ও সফল বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের একটি।

 

বিশ্বকাপ ট্রফি না জিতলেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে রোনালদোর অর্জনের তালিকা ঈর্ষণীয়। পর্তুগালের হয়ে রেকর্ড ২৩৩ ম্যাচে ১৪৬ গোল করেছেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বেই দেশটি প্রথমবারের মতো ২০১৬ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জেতে। পরে ২০১৯ ও ২০২৫ সালে উয়েফা নেশনস লিগের শিরোপাও জেতে পর্তুগাল।

 

এই অর্জনগুলোর কথাও স্মরণ করেন রোনালদো।

 

তিনি বলেন, "আমি জাতীয় দলের হয়ে তিনটি বড় শিরোপা জিতেছি। আমি যখন জাতীয় দলে এসেছিলাম, তখন পর্তুগালের কোনো আন্তর্জাতিক ট্রফি ছিল না। বিশেষ করে ২০১৬ সালের ইউরো জয় আমার কাছে বিশ্বকাপ জয়ের সমান মূল্য বহন করে। এই অর্জনগুলো নিয়ে আমি গর্বিত।"

 

বিদায়ী কোচ রবার্তো মার্তিনেজের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রোনালদো। তাঁর ভাষায়, মার্তিনেজ একজন অসাধারণ মানুষ এবং কোচ, যিনি পর্তুগালের জন্য নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন।

 

বিশ্বকাপ ট্রফি হয়তো অধরাই থেকে গেল, কিন্তু ছয়টি বিশ্বকাপ, আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা, পাঁচটি ব্যালন ডি'অর এবং দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স-এসব অর্জন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে অমর করে রাখবে। আর ডালাসের সেই রাত ইতিহাসে লেখা থাকবে তাঁর বিশ্বকাপ যাত্রার শেষ অধ্যায় হিসেবে।


সম্পর্কিত নিউজ