{{ news.section.title }}
পর্তুগাল ম্যাচটি ছিল ‘ফাইনালের আগেই ফাইনাল’, স্পেন কোচ
পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চকর জয়ের পর ম্যাচটিকে ‘ফাইনালের আগেই আরেকটি ফাইনাল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। ডালাসে মিকেল মেরিনোর যোগ করা সময়ের গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
শেষ আটে স্পেনের প্রতিপক্ষ হবে বেলজিয়াম। যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ইউরোপের আরেক শক্তিশালী দলটি। ফলে টুর্নামেন্টের অন্যতম আকর্ষণীয় একটি লড়াই অপেক্ষা করছে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য।
ম্যাচ শেষে স্প্যানিশ টেলিভিশন ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, "এটি ছিল দুই অসাধারণ দলের ম্যাচ। আমরা ম্যাচের আগেই বলেছিলাম, এটি আসলে ফাইনালের আগেই একটি ফাইনাল। ম্যাচটি ঠিক তেমনই হয়েছে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমাদের লড়াই করতে হয়েছে। দুই দলই জয়ের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। আমি আমার খেলোয়াড়দের নিয়ে গর্বিত। তারা অসাধারণ একটি ম্যাচ খেলেছে।"
স্পেন পুরো ম্যাচে বলের দখলে এগিয়ে ছিল এবং বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে পর্তুগালের ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে। লামিন ইয়ামাল, মিকেল ওয়ারজাবাল, আলেক্স বায়েনা ও নিকো উইলিয়ামসরা একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও দুর্দান্ত গোলকিপিং করেন দিয়োগো কস্তা। অন্যদিকে পর্তুগালও কয়েকটি বিপজ্জনক পাল্টা আক্রমণ করলেও উনাই সিমনের দৃঢ়তায় গোল পায়নি। শেষ পর্যন্ত ৯১ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা মিকেল মেরিনোর পা থেকেই আসে ম্যাচের একমাত্র গোল।
দে লা ফুয়েন্তের সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্ত ছিল দ্বিতীয়ার্ধে দানি ওলমোকে তুলে মিকেল মেরিনোকে মাঠে নামানো। মাত্র ছয় মিনিটের মধ্যেই সেই সিদ্ধান্তের প্রতিদান দেন আর্সেনাল মিডফিল্ডার। ফেরান তোরেসের নিখুঁত পাস থেকে নিচু শটে জাল খুঁজে নিয়ে স্পেনকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলে দেন তিনি।
ম্যাচ শেষে নিজের সেই কৌশল নিয়ে স্প্যানিশ কোচ বলেন, "বেঞ্চ থেকে উঠে আসা খেলোয়াড়রাই অনেক সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। শুরু থেকে যারা খেলেছে তারা ভিত্তিটা তৈরি করে দেয়, আর বদলি খেলোয়াড়রা এসে সেই কাজ সম্পূর্ণ করে। আজ সেটাই হয়েছে। মেরিনো ও ফেরান আমাদের নতুন শক্তি এনে দিয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "মিকেল মেরিনো এমন একজন ফুটবলার, যাকে আমি সবসময় বিশ্বাস করি। সে কখনো আমাদের হতাশ করে না। বড় ম্যাচে সে সবসময় উপস্থিত থাকে। নিজের পজিশনে সে বিশ্বের সেরাদের একজন।"
দে লা ফুয়েন্তে পুরো দলের পারফরম্যান্সেরও প্রশংসা করেন। তাঁর মতে, কেবল গোলদাতাই নয়, রক্ষণভাগ থেকে আক্রমণভাগ-সবাই পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলেছে। খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তা এবং শৃঙ্খলাই এমন কঠিন ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।
স্পেনের জন্য এই জয় শুধু কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার নয়, আত্মবিশ্বাসেরও বড় উৎস। কারণ ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের শিরোপা-দাবি আরও জোরালো করেছে তারা। স্পেন এখন টানা কয়েকটি ম্যাচে গোল না খেয়ে এগিয়ে চলেছে এবং রক্ষণ ও মাঝমাঠের ভারসাম্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোরও প্রশংসা কুড়িয়েছে।
দে লা ফুয়েন্তে বলেন, "কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পেরে আমরা আনন্দিত। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য এখানেই শেষ নয়। বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচই নতুন পরীক্ষা। আমরা আত্মবিশ্বাসী, তবে একই সঙ্গে জানি সামনে আরও কঠিন প্রতিপক্ষ অপেক্ষা করছে। আমাদের শেষ পর্যন্ত একই মনোযোগ ও একই মানসিকতা ধরে রাখতে হবে।"
পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের এই জয় স্পেনকে শুধু শেষ আটে তোলেনি, একই সঙ্গে তাদের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নকেও আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। এখন বেলজিয়ামের বিপক্ষে আরেকটি বড় পরীক্ষার অপেক্ষায় লা রোহা।