{{ news.section.title }}
যুক্তরাষ্ট্রকে উড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনকে পেল বেলজিয়াম
নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছিল যুক্তরাষ্ট্র। সিয়াটলের গ্যালারিও ছিল লাল-সাদা-নীলের উচ্ছ্বাসে মুখর। কিন্তু সেই স্বপ্ন মাত্র ৯ মিনিটেই বড় ধাক্কা খায়। আর শেষ পর্যন্ত চার্লস ডি কেটেলারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ৪-১ গোলের বড় জয় তুলে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় বেলজিয়াম।
ম্যাচের শুরু থেকেই রুডি গার্সিয়ার দল বুঝিয়ে দেয় তারা স্বাগতিকদের কোনো সুযোগ দিতে রাজি নয়। উচ্চ প্রেসিং, দ্রুত পাসিং এবং ডান প্রান্ত দিয়ে ধারাবাহিক আক্রমণে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগকে বারবার অস্থির করে তোলে বেলজিয়াম। তারই ফল আসে নবম মিনিটে। নিকোলাস রাসকিনের আক্রমণ থেকে বল যায় টিমোথি কাস্তানিয়ার কাছে। তাঁর নিখুঁত ক্রস ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে পৌঁছে যায় চার্লস ডি কেটেলারের সামনে। কাছ থেকে বল জালে ঠেলে দিয়ে বেলজিয়ামকে এগিয়ে দেন তিনি।
গোল হজমের পর ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে মরিসিও পচেত্তিনোর দল। ৩১ মিনিটে সেই চেষ্টার ফলও আসে। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে মালিক টিলম্যানের নেওয়া ফ্রি-কিক বেলজিয়ামের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে থিবো কোর্তোয়ার নাগালের বাইরে চলে যায়। স্কোরলাইন হয় ১-১।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সমতার আনন্দ স্থায়ী হয় মাত্র দুই মিনিট। ৩৩ মিনিটে আবারও আঘাত হানে বেলজিয়াম। লিয়ান্দ্রো ত্রোসারের নিখুঁত ক্রসে দারুণ এক হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ডি কেটেলারে। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয় ইউরোপের দলটি।
প্রথমার্ধেই বেলজিয়াম ধাক্কাও খায়। দলের গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডার আমাদু ওনানা হাঁটুর চোটে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। তাঁর বদলি হিসেবে নামেন হান্স ভানাকেন। পরে সেই পরিবর্তনই ম্যাচে বড় পার্থক্য গড়ে দেয়।
দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা করছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ৫৭ মিনিটে ঘটে ম্যাচের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য ঘটনা। লম্বা বল ক্লিয়ার করতে নিজের বক্স ছেড়ে অনেকটা এগিয়ে আসেন গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজ। কিন্তু বল নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে দ্বিধায় পড়ে যান তিনি। সেই সুযোগে ডি কেটেলারে বল দখল করে ভানাকেনের দিকে বাড়িয়ে দেন। প্রায় ফাঁকা পোস্টে বল জড়িয়ে বেলজিয়ামকে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ভানাকেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই ভুলটিকেই ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এরপর ম্যাচের বাকি সময় বলের দখল কিছুটা বাড়ালেও কার্যকর আক্রমণ গড়তে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। খ্রিস্টিয়ান পুলিসিচ, ফোলারিন বালোগুন ও ওয়েস্টন ম্যাককেনিরা কয়েকবার সুযোগ তৈরি করলেও বেলজিয়ামের সংগঠিত রক্ষণভাগ এবং অভিজ্ঞ গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া সবকিছু সামলে নেন। ম্যাচের শেষ দিকে পুলিসিচ পায়ে চোটও পান, যা স্বাগতিকদের হতাশা আরও বাড়িয়ে দেয়।
৬৭ মিনিটে মাঠে নামেন রোমেলু লুকাকু। ম্যাচের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে কেভিন ডি ব্রুইনের বদলি হিসেবে খেলতে নামা সতীর্থদের সঙ্গে দারুণ এক আক্রমণ থেকে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ৯৩তম গোল করেন তিনি। সেই গোলেই ৪-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় বেলজিয়ামের।
ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন চার্লস ডি কেটেলারে। দুই গোলের পাশাপাশি ভানাকেনের গোলেও অ্যাসিস্ট করেন তিনি। পুরো ম্যাচজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগকে ভোগান এই ফরোয়ার্ড এবং বেলজিয়ামের আক্রমণের মূল চালিকাশক্তি হয়ে ওঠেন।
এই পরাজয়ের মাধ্যমে ২০০২ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্ন ভেঙে যায়। একই সঙ্গে ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ছয়টি CONCACAF দলই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়। অপরদিকে, বেলজিয়াম টানা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ধরে রেখে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ হবে স্পেন, যেখানে ইউরোপের দুই শক্তিশালী দলের লড়াই ঘিরে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে আলোচনা।