{{ news.section.title }}
ফটিকছড়িতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল বাবা-ছেলের
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় বিআরটিসির একটি বাসের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। সোমবার সকালে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কের ফটিকছড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন মোহাম্মদ শাহজাহান ও তার ছেলে আরিফ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ১০টার দিকে শাহজাহান ও তার ছেলে আরিফ মোটরসাইকেলে করে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা বিআরটিসির একটি দ্রুতগতির বাস মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। বাবা-ছেলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের পাশাপাশি তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল আলম খান জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তিনি বলেন, বাসচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা বিআরটিসির বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন সড়কে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা সড়ক অবরোধ করেন। এতে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে ক্ষুব্ধ জনতার একটি অংশ দুর্ঘটনাকবলিত বিআরটিসি বাসটিতে আগুন দেয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে। পরে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
দুর্ঘটনার পর বাসের চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছেন কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করা হচ্ছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও মোটরসাইকেল জব্দের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কে দীর্ঘদিন ধরে দ্রুতগতির যানবাহন চলাচলের কারণে দুর্ঘটনা বেড়েছে। বিশেষ করে যাত্রীবাহী বাস ও ভারী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে থাকেন। তারা সড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ট্রাফিক নজরদারি এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানান।
ফটিকছড়ি ও আশপাশের এলাকার মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করেন। স্থানীয় বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল ও জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এখানে যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল, সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত যানবাহনের চাপ থাকে বেশি। অতিরিক্ত গতি ও অসতর্কতার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সড়ক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের মতে, মোটরসাইকেল আরোহীদের জন্য আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোতে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। দ্রুতগতির বড় যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষ হলে প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে বেশি। তাই হেলমেট ব্যবহার, গতি নিয়ন্ত্রণ, ওভারটেকিংয়ে সতর্কতা এবং চালকদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি।
একই সঙ্গে দুর্ঘটনার পর যানবাহনে আগুন দেওয়া বা ভাঙচুরের মতো ঘটনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, দুর্ঘটনায় দোষীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি, তবে উত্তেজিত জনতার সহিংস প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। এতে সড়ক নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা সব ক্ষেত্রেই ঝুঁকি তৈরি হয়।
সব মিলিয়ে ফটিকছড়ির এই দুর্ঘটনা আবারও আঞ্চলিক সড়কে নিরাপত্তাহীনতার প্রশ্ন সামনে এনেছে। বাবা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোক নেমে এসেছে। একই সঙ্গে বেপরোয়া যানচালনা বন্ধ, সড়কে নজরদারি বৃদ্ধি এবং দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।