{{ news.section.title }}
ফরিদপুরে হাম আতঙ্ক, আরও দুই শিশুর মৃত্যু
ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাদের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে চলতি বছরে ফরিদপুরের হাসপাতালে হাম বা হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে।
মারা যাওয়া দুই শিশু হলো রাজবাড়ী সদর উপজেলার মাটিপাড়া গ্রামের রেজাউল করিমের ৯ মাস বয়সী ছেলে আয়ান করিম এবং ফরিদপুর শহরের হাড়োকান্দি এলাকার কামরুল ইসলামের তিন মাস বয়সী ছেলে আব্দুল্লাহ। তারা দুজনই ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, হাম প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা, নতুন রোগী শনাক্ত এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হাম বা হামের উপসর্গ নিয়ে ১৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জের চারজন করে, রাজবাড়ী ও মাদারীপুরের তিনজন করে এবং মাগুরা ও যশোরের একজন করে শিশু রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, চলতি বছরের শুরু থেকে ২৯ মে পর্যন্ত ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে মোট ১ হাজার ৯৯২ জন হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৩০০ জন এবং ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ৫৭৬ জন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ হাজার ৭৩১ জন রোগী।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৩০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৮ জন এবং জেনারেল হাসপাতালে ১২ জন ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে দুই হাসপাতালে মোট ১২৯ জন রোগী চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৮১ জন এবং জেনারেল হাসপাতালে ৪৮ জন রয়েছে। একই সময়ে ৩৩ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।
জেলাভিত্তিক আক্রান্তের হিসাবে ফরিদপুর সদরে রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এখানে ৫৭৬ জনের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া বোয়ালমারীতে ২১ জন, ভাঙ্গায় ২৩ জন, চরভদ্রাসনে ১২ জন, নগরকান্দায় ১১ জন, মধুখালীতে ৬ জন, সদরপুরে ১৪ জন এবং সালথায় ২২ জন আক্রান্ত হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, আক্রান্তদের বড় অংশই শিশু এবং অনেকের টিকা সম্পূর্ণ হয়নি। সময়মতো টিকা না নেওয়া, সচেতনতার অভাব এবং অসুস্থতার শুরুতে চিকিৎসা না নেওয়াকে পরিস্থিতি জটিল হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া, শরীরে দানা ওঠা বা হামের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। একই সঙ্গে শিশুদের নির্ধারিত সময়ের টিকা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
জাতীয় পর্যায়েও চলতি বছর হাম পরিস্থিতি উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হলেও নিয়মিত টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই শিশুদের পূর্ণ ডোজ টিকা নিশ্চিত করা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি।