{{ news.section.title }}
তেঁতুলিয়া সীমান্তে নারী-শিশুসহ ১৩ জনকে পুশইনচেষ্টা
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া সীমান্তে নারী ও শিশুসহ ১৩ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের তাৎক্ষণিক ও কঠোর অবস্থানের কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে বিএসএফ ওই ব্যক্তিদের আবার ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে পঞ্চগড়-১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের তেঁতুলিয়ার মাঝিপাড়া বিওপির (বর্ডার আউটপোস্ট) দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ৪৩৪/৫-এস সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থিত নয়াবাড়ি বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা ভোরের দিকে নারী ও শিশুসহ মোট ১৩ জনকে সীমান্ত অতিক্রম করিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালায়। বিষয়টি নজরে আসতেই সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত বিজিবির টহলদল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
বিজিবির সদস্যরা সীমান্তে কঠোর অবস্থান নিলে বিএসএফ তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। একপর্যায়ে বিজিবির বাধার মুখে ওই ১৩ জনকে আবার ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায় বিএসএফ। ফলে সীমান্ত দিয়ে কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে পুশইনের কয়েকটি ঘটনা সামনে আসার পর সীমান্তজুড়ে বিজিবি সতর্কতা আরও জোরদার করেছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বিভিন্ন বয়সী মানুষকে সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠানোর অভিযোগের পর সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
পঞ্চগড়-১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ কায়েস বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পুশইনের চেষ্টা করা ব্যক্তিরা ভারতের অভ্যন্তরেই অবস্থান করছিলেন। দায়িত্ব পালনরত বিজিবি সদস্যদের তৎপরতার কারণে তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারেননি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সীমান্তের শূন্যরেখায় কোনো ব্যক্তি অবস্থান করছেন না এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের কোনো অনুপ্রবেশ বা পুশইনের ঘটনা ঘটতে না পারে, সেজন্য পুরো সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশইন কিংবা সীমান্ত লঙ্ঘনের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকসহ কূটনৈতিক ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার প্রচলিত প্রক্রিয়াও অনুসরণ করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার থাকায় দ্রুত ঘটনাটি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তারা সীমান্তে নিরাপত্তা আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না ঘটে।