বান্দরবানের পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের মেয়াদ বাড়লো

বান্দরবানের পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের মেয়াদ বাড়লো
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ধসের আশঙ্কা এবং দুর্গম এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের মেয়াদ আরও বাড়িয়েছে জেলা প্রশাসন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত জেলার সব পর্যটন স্পট, ঝর্না, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ ও দুর্গম এলাকায় পর্যটকদের প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পর্যটন সেল থেকে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া পাহাড়ধস, আকস্মিক পাহাড়ি ঢল এবং নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকায় জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এর আগে গত ৬ জুলাই জারি করা নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়ায় তা আরও পাঁচ দিন বাড়ানো হয়েছে। ফলে আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের কোনো পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণ করা যাবে না।

 

নিষেধাজ্ঞার আওতায় জেলার সব পর্যটন স্পটের পাশাপাশি জনপ্রিয় ঝর্না, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ সব স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটর, গাইড ও সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময় কোনো ধরনের ট্রেকিং, ক্যাম্পিং বা অ্যাডভেঞ্চারভিত্তিক পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনারও অনুমতি দেওয়া হবে না।

 

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি এলাকার মাটি নরম হয়ে গেছে। এতে যেকোনো সময় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটতে পারে। পাশাপাশি পাহাড়ি ছড়া ও নদীগুলোতে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

প্রশাসন আরও জানিয়েছে, জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা নীলগিরি, নীলাচল, স্বর্ণমন্দির, মেঘলা, শৈলপ্রপাতসহ জেলার সব দর্শনীয় স্থান এই সময় বন্ধ থাকবে। এছাড়া বিভিন্ন পাহাড়ি ঝর্না ও ট্রেইলেও প্রবেশ করা যাবে না।

 

স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য সংস্থাকে নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

 

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আরও কয়েক দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে পার্বত্য এলাকায় অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কাটেনি।

 

জেলা প্রশাসন পর্যটক, ভ্রমণপিপাসু, ট্যুর অপারেটর এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অপ্রয়োজনীয়ভাবে পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় যাতায়াত থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে এবং ঝুঁকি কমে এলে নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পর্যটনকেন্দ্রগুলো আবারও দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে। ততদিন পর্যন্ত জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।


সম্পর্কিত নিউজ