লালমনিরহাট সীমান্তে ৩ নারীকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ

লালমনিরহাট সীমান্তে ৩ নারীকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ
ছবির ক্যাপশান, পুরনো ছবি

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্ত দিয়ে তিন নারীকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের মুখে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ঘটনাটির পর সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে বিজিবি এবং বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) ভোরে পাটগ্রাম উপজেলার ধবলসূতি বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) এলাকার ৮৩৩/৯-এস নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে।

 

বিজিবি ও স্থানীয় সীমান্ত সূত্র জানায়, ভোর আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিটে ভারতের বিএসএফের ৯৮ ব্যাটালিয়নের খরখড়িয়া ক্যাম্পের সদস্যরা সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার একটি গেট খুলে তিন নারীকে জোরপূর্বক বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি টের পেয়ে ধবলসূতি সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত বিজিবির টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবস্থান নেয় এবং পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করে।

 

বিজিবির কড়া অবস্থানের কারণে বিএসএফ সদস্যরা ওই তিন নারীকে বাংলাদেশে প্রবেশ করাতে পারেনি। পরে তারা সীমান্ত থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়। বর্তমানে ওই তিন নারী সীমান্ত পিলার ৮৩৩/৯-এস থেকে আনুমানিক ১৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছে সীমান্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র।

 

ঘটনার পর পুরো সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করেছে বিজিবি। সীমান্তজুড়ে টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইনের চেষ্টা প্রতিরোধে সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে ৬১ বিজিবি (তিস্তা ব্যাটালিয়ন-২) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনিম বলেন, ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গেই বিএসএফের সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়ন কমান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। সীমান্তে অবস্থান করা ওই তিন নারীকে দ্রুত ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য বিএসএফকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সীমান্তে প্রচলিত নিয়ম ও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা লঙ্ঘন করে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর কোনো সুযোগ নেই। বিজিবি দেশের সীমান্ত রক্ষায় সর্বদা সজাগ রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও যেকোনো ধরনের পুশইন বা অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভোরের দিকে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যদের তৎপরতা বাড়তে দেখা যায়। পরে জানা যায়, তিন নারীকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা হয়েছিল। বিজিবির দ্রুত পদক্ষেপের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।

 

সীমান্ত বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় পুশইনের অভিযোগ নতুন নয়। তবে প্রতিটি ঘটনার পর বিজিবি কূটনৈতিক ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার নিয়ম অনুসরণ করে বিষয়টি বিএসএফের কাছে তুলে ধরে এবং সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করে।

 

বর্তমানে ধবলসূতি সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও পুরো এলাকা বিজিবির নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সীমান্ত পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে এবং নতুন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সম্পর্কিত নিউজ