শূন্যরেখায় আটকে পড়েছেন ১০ জন, ফেরত পাঠিয়েছে বিএসএফ

শূন্যরেখায় আটকে পড়েছেন ১০ জন, ফেরত পাঠিয়েছে বিএসএফ
ছবির ক্যাপশান, শূন্যরেখায় আটকে পড়েছেন ১০ জন, ফেরত পাঠিয়েছে বিএসএফ

যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের বিরুদ্ধে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবির টহল দল বিষয়টি জানতে পেরে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ প্রতিহত করে। বর্তমানে তারা বেনাপোল সীমান্তের সাদিপুর গ্রামের বোম্বে তলার খড়ের মাঠসংলগ্ন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।

সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, সোমবার গভীর রাতে বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের গেট খুলে ওই ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। তাদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশু রয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পর যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের টহল দলের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটকে দেন এবং বাংলাদেশে প্রবেশ প্রতিহত করেন।

 

বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করা ব্যক্তিদের পরিচয় ও নাগরিকত্ব যাচাইয়ের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া সীমান্ত দিয়ে কাউকে ঠেলে পাঠানো গ্রহণযোগ্য নয় বলে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফকে জানানো হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য বিএসএফের কাছে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।

 

যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিএসএফের ঠেলে পাঠানো ১০ জন নারী-পুরুষ ও শিশু বেনাপোল সীমান্তের সাদিপুর মাঠের ভারত-বাংলাদেশের জিরো লাইনে অবস্থান করছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য বিএসএফকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

 

তিনি আরও জানান, সকাল ১০টার দিকে বিষয়টি নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে ওই ১০ জনের পরিচয়, কীভাবে তারা সীমান্তে এলেন এবং তাদের বিষয়ে পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা হবে।

 

সীমান্ত এলাকার স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে সীমান্ত এলাকায় হঠাৎ তৎপরতা বাড়তে দেখা যায়। পরে জানা যায়, কয়েকজন নারী, পুরুষ ও শিশুকে সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে রেখে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়।

 

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে পুশ-ইনের অভিযোগ বেড়েছে। বিজিবি বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছে, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কাউকে সীমান্ত দিয়ে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহত করা হবে। একই সঙ্গে সীমান্তে টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও স্থানীয় জনসচেতনতা বাড়ানো হয়েছে।

 

সীমান্ত নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ঘটনা কেবল নিরাপত্তা ইস্যু নয়, মানবিক বিষয়ও। কারণ নারী ও শিশুসহ মানুষ দীর্ঘ সময় শূন্যরেখায় আটকে থাকলে তাদের খাবার, পানি, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই দ্রুত কূটনৈতিক ও সীমান্ত পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান জরুরি।

 

বেনাপোল সীমান্ত দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলসীমান্ত এলাকা। এই সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন বাণিজ্যিক কার্যক্রম, পণ্য আমদানি-রপ্তানি এবং মানুষের চলাচল হয়ে থাকে। ফলে সীমান্তে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা স্থানীয় জনজীবন, নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে।

 

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আইনগত ও প্রক্রিয়াগত যাচাই ছাড়া কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। পতাকা বৈঠকের পর এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


সম্পর্কিত নিউজ