ভারত থেকে এলো ৪ হাজার টন ডিজেল, জমা হলো পার্বতীপুর ডিপোতে

ভারত থেকে এলো ৪ হাজার টন ডিজেল, জমা হলো পার্বতীপুর ডিপোতে
ছবির ক্যাপশান, ভারত থেকে এলো ৪ হাজার টন ডিজেল, জমা হলো পার্বতীপুর ডিপোতে

বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারতের নুমালীগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেল হেড ডিপোতে আরও ৪ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এসেছে। রোববার চলতি মে মাসের দ্বিতীয় চালান হিসেবে এই জ্বালানি তেল পার্বতীপুরে পৌঁছায়।

পার্বতীপুর রেল হেড ডিপো সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ মে ভারতের নুমালীগড় ফুয়েল টার্মিনাল থেকে এই চালানের ডিজেল পাম্পিং কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর পাইপলাইনের মাধ্যমে ধাপে ধাপে জ্বালানি তেল বাংলাদেশ অংশে প্রবেশ করে এবং পার্বতীপুর ডিপোতে গ্রহণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

 

চলতি মাসে এটি ভারত থেকে আসা দ্বিতীয় ডিজেল চালান। এর আগে মে মাসের প্রথম চালানে আরও ৪ হাজার টন ডিজেল পার্বতীপুরে আসে। সে হিসাবে চলতি মাসে দুই দফায় মোট ৮ হাজার টন ডিজেল দেশে পৌঁছেছে। নিয়মিত আমদানির অংশ হিসেবেই এসব চালান আনা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

 

এর আগে গত এপ্রিল মাসেও বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে কয়েক দফায় ডিজেল আমদানি করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী নিয়মিত আমদানির অংশ হিসেবে এপ্রিলের শুরুতে নুমালীগড় থেকে পাম্পিং শুরু হয়ে পার্বতীপুর ওয়েল ডিপোতে তেল গ্রহণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। ওই চালানে ৮ হাজার টন ডিজেল আসে। পরবর্তী সময়ে আরও ৫ হাজার টন ডিজেল আমদানি করা হয়। সব মিলিয়ে এপ্রিল মাসে তিন দফায় মোট ৪৪ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে আসে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন দুই দেশের জ্বালানি সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারতের আসামের নুমালীগড় রিফাইনারি থেকে সরাসরি বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে ডিজেল সরবরাহ করা হয়। এতে সমুদ্রপথ বা সড়কপথের তুলনায় দ্রুত ও তুলনামূলক নিরাপদভাবে জ্বালানি পরিবহনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

 

বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে পার্বতীপুর ডিপোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কৃষি, পরিবহন, বিদ্যুৎ, শিল্প ও দৈনন্দিন জ্বালানি চাহিদা পূরণে ডিজেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ প্রয়োজন। পাইপলাইনের মাধ্যমে নিয়মিত ডিজেল আসায় উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি মজুত ও বিতরণ ব্যবস্থায় বাড়তি স্বস্তি তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

জ্বালানি খাতের কর্মকর্তারা বলছেন, পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি হলে পরিবহন ব্যয় কমে, সময় সাশ্রয় হয় এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম থাকে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী ও উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

চলমান বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা, সরবরাহ ব্যয় এবং আমদানি ব্যবস্থার চাপ বিবেচনায় প্রতিবেশী দেশ থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত চালান অব্যাহত থাকলে দেশের জ্বালানি মজুত ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হবে এবং উত্তরাঞ্চলে সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।

 

সব মিলিয়ে পার্বতীপুর রেল হেড ডিপোতে আরও ৪ হাজার টন ডিজেল পৌঁছানো দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য ইতিবাচক ঘটনা। চুক্তি অনুযায়ী ভবিষ্যতেও পাইপলাইনের মাধ্যমে নিয়মিত ডিজেল আমদানি অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।


সম্পর্কিত নিউজ