চবিতে ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, দুই শিক্ষার্থী আহত

চবিতে ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, দুই শিক্ষার্থী আহত
ছবির ক্যাপশান, চবিতে ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, দুই শিক্ষার্থী আহত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের বিরোধের ঘটনায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বাকবিতণ্ডা মারধরের ঘটনায় রূপ নেয়-এমন অভিযোগ উঠেছে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত প্রায় ১০টার দিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রেলগেট এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

 

আহত দুই শিক্ষার্থী হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবির সরকার ও আশিকুর ইসলাম। তাদের মধ্যে আবির বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে কাজ করেন বলেও জানা গেছে।

 

ঘটনার বর্ণনায় আশিকুর ইসলাম বলেন, তারা কয়েকজন মিলে খাবার শেষে ক্যাম্পাসে ফেরার জন্য বাস ধরতে যাচ্ছিলেন। এ সময় বাসের দিকে দৌড়ে যাওয়ার সময় তাদের মধ্যে কেউ কেউ স্লোগান দেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়। পরে বাসে ওঠার পর ওই ব্যক্তি ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন বাস থামিয়ে তাদের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

আশিকুরের দাবি, একপর্যায়ে আবির মোবাইল ফোন বের করে ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে সেটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ফোনটি ফেরত চাইলে তাকে আঘাত করা হয় এবং পরবর্তীতে কয়েকজন মিলে কাঠের টুকরো দিয়ে মারধর শুরু করে। পরে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

 

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকান দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

 

আরো পড়ুন : জাবির আবাসিক হলে মাদক সেবনরত অবস্থায় নারী শিক্ষার্থী আটক

 

আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে। দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান, একজন শিক্ষার্থীর হাতে গুরুতর আঘাত থাকায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়েছে। অন্যজনের ঘাড় ও হাতে আঘাত রয়েছে।

 

ঘটনার পর আহত শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে হাটহাজারী মডেল থানায় মামলা করা হয়। এতে স্থানীয় দুজনকে আসামি করা হয়েছে।

 

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ও র‍্যাব যৌথ অভিযান চালায়। এতে প্রধান অভিযুক্ত একজনকে আটক করা হয়েছে এবং অন্যজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

 


সম্পর্কিত নিউজ