{{ news.section.title }}
জুলাইয়ের প্রথম ১৪ দিনে রেমিট্যান্সের নতুন রেকর্ড
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতেই দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে ইতিবাচক ধারা দেখা দিয়েছে। নতুন অর্থবছরের প্রথম ১৪ দিনেই প্রবাসীরা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে পাঠিয়েছেন ১৫৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ বেশি। রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার পাশাপাশি ডলার বাজারে স্থিতিশীলতা আনতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ১ থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত দেশে এসেছে ১৫৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার বা প্রায় ১ দশমিক ৫৪২ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ রেমিট্যান্স। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকারও বেশি (প্রচলিত বিনিময় হার অনুযায়ী)।
গত অর্থবছরের (২০২৫-২৬) একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১২৬ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। সেই হিসাবে এবার প্রথম ১৪ দিনেই প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ২৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার। শতাংশের হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২১ দশমিক ৮০ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের দৈনিক হিসাব অনুযায়ী, জুলাইয়ের প্রথম দুই সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১১ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। এর মধ্যে শুধু ১৪ জুলাই একদিনেই বৈধ পথে এসেছে ১১ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রতিদিন ধারাবাহিকভাবে এভাবে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আসা ডলার সংকট মোকাবিলা এবং আমদানি ব্যয় পরিশোধে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো সহজ হওয়া, ডলারের বিনিময় হার বাজারভিত্তিক সমন্বয়, সরকারের নগদ প্রণোদনা এবং হুন্ডির বিরুদ্ধে নজরদারি জোরদারের কারণে বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে প্রবাসীদের আগ্রহ বেড়েছে। ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে আমদানি ব্যয় মেটানো, বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
উল্লেখ্য, গত অর্থবছরেও দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। নতুন অর্থবছরের শুরুতেই সেই ধারা আরও শক্তিশালী হওয়ায় অর্থনীতির জন্য এটি আশাব্যঞ্জক বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।