দেশীয় ফলের বাহার ও উৎসবের আমেজে ইবিতে ফল উৎসব

দেশীয় ফলের বাহার ও উৎসবের আমেজে ইবিতে ফল উৎসব
ছবির ক্যাপশান, ছবি: জাগরণ

দেশীয় ফলের ঐতিহ্য এবং বাঙালির সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ‘বাংলা সংসদ’-এর উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী ‘ফল উৎসব ও বর্ষযাপন’। সোমবার (২২ জুন) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনের নিচতলায় বাংলা বিভাগে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে প্রায় ৩২ ধরনের দেশি ফল প্রদর্শন ও পরিবেশন করা হয়।

অনুষ্ঠানে রঙ-বেরঙের মৌসুমি ফলের সমাহারে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়, যা শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ উপস্থিত সকলের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

 

অনুষ্ঠানে বাংলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মনজুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলাম এবং কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।এছাড়াও বাংলা বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, উৎসবে দেশীয় ফলের এক অনন্য সমাহার সাজানো হয়েছে। আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, আনারস, পেয়ারা, কলা, সফেদা, করমচা, তরমুজ, বেল, জলপাইসহ বিভিন্ন মৌসুমি ও স্বল্প পরিচিত ফল আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা হয়। ফলের রঙ, গন্ধ ও বৈচিত্র্যে অনুষ্ঠানস্থল হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর।

 

শিক্ষার্থীরা ফলগুলো ঘুরে ঘুরে দেখেন, ছবি তোলেন এবং ফলের স্বাদ গ্রহণের করেন। তারা এটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিরল এবং ব্যতিক্রমী আয়োজন হিসেবে অভিহিত করেন। তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এমন ফল উৎসব এবারই প্রথম দেখলাম। শুধু ফল খাওয়াই নয়, দেশীয় ফলের বৈচিত্র্য সম্পর্কে জানারও একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। বর্তমান সময়ে ফাস্টফুড ও বিদেশি খাদ্যের প্রতি মানুষের ঝোঁক বাড়লেও দেশীয় ফলের প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, “এত বড় পরিসরে ফলের আয়োজন এর আগে আমরা দেখিনি। আম, কাঁঠাল ও লিচুর মতো পরিচিত ফলের পাশাপাশি অনেক কম পরিচিত ফলও এখানে রাখা হয়েছে। আয়োজনটি আমাদের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা এনে দিয়েছে। আমরা চাই প্রতি বছরই বাংলা সংসদ এমন সৃজনশীল ও ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান আয়োজন করুক।”

 

অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে বাংলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মনজুর রহমান বলেন, “এখানে আমরা প্রায় ৩২ প্রকার ফলের আয়োজন করেছি। স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আমাদের এই ফল উৎসব উদযাপিত হয়েছে। আমার জানামতে বাংলা বিভাগে এটি প্রথম ফল উৎসব। বিশ্ববিদ্যালয়ে এর আগে এমন আয়োজন হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই। আমার ২৪ বছরের চাকরি জীবনে আমি এ ধরনের ফল উৎসব দেখিনি।”

 

তিনি আরও বলেন, “ফল শুধু খাদ্য নয়, এটি আমাদের পুষ্টির অন্যতম উৎস। বিভিন্ন ফলে রয়েছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির উপাদান। নিয়মিত ফল খাওয়ার মাধ্যমে আমরা অনেক রোগ থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে পারি। তাই দেশীয় ফলের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং এর গুরুত্ব তুলে ধরতেই আমাদের আয়োজন।


সম্পর্কিত নিউজ