{{ news.section.title }}
কাঁঠাল পাড়তে গিয়ে প্রাণ গেল ঢাবির রোকেয়া হলের বাগানমালির
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের বাগান থেকে কাঁঠাল পাড়তে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন হলের বাগানমালী সিয়াকুল ইসলাম। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর মো. ইসরাফিল রতন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে রোকেয়া হলের বাগানে কাঁঠাল পাড়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন সিয়াকুল ইসলাম। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গাছের বেশিরভাগ কাঁঠাল নিচ থেকে বিশেষ জালের সাহায্যে নামানো হচ্ছিল। তবে শেষের একটি কাঁঠাল পাড়তে গিয়ে সিয়াকুল ইসলাম গাছে ওঠেন।
রোকেয়া হলের এক বাগানমালী জানান, আগের দিন হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাঁঠাল পাড়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে সকালে কর্মীরা নাস্তা না করেই কাজে যোগ দেন। পরে কয়েকজন মালী একসঙ্গে কাঁঠাল পাড়ার কাজ শুরু করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাছে থাকা অবস্থায় একটি ছোট কাঁঠাল সিয়াকুল ইসলামের গায়ে আঘাত করলে তিনি ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। এরপর তিনি পাশের নিরাপত্তাকর্মীদের কক্ষের দেয়ালে আঘাত পেয়ে নিচে পড়ে যান।
আরেক সহকর্মী জানান, একটি কাঁঠাল তার বুকে আঘাত করে। পড়ে যাওয়ার সময় তিনি একটি গর্তের মধ্যে পড়ে যান এবং দেয়ালের ইটের সঙ্গে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। এতে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন।
দুর্ঘটনার পরপরই সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা প্রথমে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখেন। তবে অবস্থার অবনতি হলে সকাল ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সহকর্মীরা জানান, সিয়াকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলে বাগানমালী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার মৃত্যুতে সহকর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
হলের কর্মচারীরা জানান, মৃত্যুর পর তার মরদেহ গোসলের জন্য দক্ষিণ আজিমপুরে নেওয়া হয়েছে। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জোহরের নামাজের পর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
জানাজা শেষে তার মরদেহ নিজ জেলা নড়াইলের কালিয়া উপজেলার দেবদুন গ্রামে নেওয়া হবে, যেখানে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
সহকর্মীরা বলেন, সিয়াকুল ইসলাম অত্যন্ত পরিশ্রমী ও সৎ মানুষ ছিলেন। কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই তার এই মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। তার অকাল মৃত্যুতে সহকর্মীদের মধ্যে শোক ও বেদনার সৃষ্টি হয়েছে।