{{ news.section.title }}
চবিতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আইনি কাঠামো নিয়ে সেমিনার
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশগত আইন, নীতিনির্ধারণ এবং বিপন্ন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিষয়ে একটি আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) উদ্যোগে ‘ডিটারমিনেন্টস অব লেজিসলেটিভ ডিসিশন মেকিং অন এনভায়রনমেন্টাল ইস্যুজ: দ্য কেস অব দ্য এনডেঞ্জারড স্পিসিস অ্যাক্ট’ শীর্ষক এ সেমিনার রবিবার (২৬ এপ্রিল ২০২৬) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় অনুষদে অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান। আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের ওহিও স্টেট ইউনিভার্সিটির ন্যাচারাল রিসোর্স ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং ২০২৫-২৬ সেশনের ফুলব্রাইট স্কলার ড. সাইয়েদ আর. মাহমুদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইকিউএসি পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. শামীম উদ্দিন খান বলেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক সেমিনার বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি উল্লেখ করেন, পরিবেশগত আইন নিয়ে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা বিনিময় বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নতুন চিন্তার দুয়ার খুলবে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করবে।
আলোচক প্রফেসর ড. আল-আমীন বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ এখন আর কোনো একক দেশের বিষয় নয়; এটি বৈশ্বিক সংকটে পরিণত হয়েছে। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকর সমন্বয়ের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
মূল প্রবন্ধে ড. সাইয়েদ আর. মাহমুদ যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৩ সালের ‘এনডেঞ্জারড স্পিসিস অ্যাক্ট (ইএসএ)’-এর প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আইনটির উদ্দেশ্য ছিল বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতিকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া এবং তাদের আবাসস্থল সংরক্ষণ করা। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ আইন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, কারণ কোনো প্রজাতিকে বিপন্ন ঘোষণা করা হলে পরিবেশগত দিককে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, যেখানে অর্থনৈতিক প্রভাব ও মানবজীবনের বাস্তবতা অনেক সময় উপেক্ষিত থাকে। তিনি আরও বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের অর্থনৈতিক মূল্য নির্ধারণ কঠিন হওয়ায় নীতিনির্ধারণে জটিলতা তৈরি হয় এবং রাজনৈতিক চাপ ও জনমত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবুও, বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য রক্ষায় বিপন্ন প্রজাতি সংরক্ষণ অপরিহার্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।