চবি ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজে বিগত ১১ বছরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়ে বিদায় সংবর্ধনা

চবি ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজে বিগত ১১ বছরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়ে বিদায় সংবর্ধনা
ছবির ক্যাপশান, চবি ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজে | ছবি: জাগরণ ছবি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজে গত এক দশকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সম্মানে মিলনমেলা ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল ২০২৬) বেলা ১২টায় স্কুলের শ্রেণিকক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ২০১৫ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অবসর নেওয়া শিক্ষকদের সম্মাননা জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) ও গভর্নিং বডির সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন, গভর্নিং বডির সদস্য প্রফেসর ড. রেজাউল আজিম, প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মান্নান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের রয়েছে গৌরবময় ইতিহাস, আর সেই ইতিহাসের অংশ এই বিদায়ী শিক্ষকরা। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ছয়তলা বিশিষ্ট দুটি ভবন নির্মাণ ও শিক্ষার্থীদের জন্য খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি শিক্ষা খাতে জাতীয় বাজেট বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

তিনি আরও বলেন, একজন শিক্ষক একটি গ্রন্থাগারের সমান। শিক্ষকের প্রেরণা ও দিকনির্দেশনা একজন শিক্ষার্থীর জীবন বদলে দিতে পারে। জাতি গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য উল্লেখ করে তিনি বিদায়ী শিক্ষকদের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন বলেন, শিক্ষকতা কেবল পেশা নয়, এটি মানুষ গড়ার এক মহান ব্রত। তিনি শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ক্লাসমুখী করে তোলার আহ্বান জানান এবং বিদায়ী শিক্ষকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।

 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম। স্বাগত বক্তব্য দেন সহকারী প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা সরকার। বিদায়ী শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মো. সোলায়মান, মো. আতিকুল্লাহ, রফিকুল ইসলাম মজুমদার, বিজয় রঞ্জন চক্রবর্তী, দৌলত উল্লাহ তালুকদার ও নারগিস আক্তার। এছাড়া সহকারী শিক্ষক কাজী ফারজানা মমতাজ বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহকারী শিক্ষক সামিনা চৌধুরী।

 

বক্তারা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে তাঁদের অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। বিদায়ী শিক্ষকরা তাঁদের কর্মজীবনের নানা স্মৃতিচারণ করে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করেন। অনুষ্ঠানে তাঁদের সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহার প্রদান করা হয়।

 

অনুষ্ঠানে বিদায়ী ও বর্তমান শিক্ষক, শিক্ষার্থী, আমন্ত্রিত অতিথি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।


সম্পর্কিত নিউজ