{{ news.section.title }}
আবারও চবি শাটলে পাথর নিক্ষেপ, এবার আহত নারী শিক্ষার্থী
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)গামী শাটল ট্রেনে আবারও পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় এক নারী শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেল ৫টার শাটলে ক্যাম্পাসে আসার পথে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফতেয়াবাদ স্টেশনের কাছাকাছি এনে প্রাথমিক সেবা দেওয়া হয়।
সহযাত্রীদের অভিযোগ, চলন্ত ট্রেনে বাইরে থেকে ছোড়া পাথর সরাসরি ওই শিক্ষার্থীর কপালে আঘাত করে। এতে তিনি অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে প্রায় অচেতন হয়ে পড়েন। পরে সহপাঠীরা তাকে সামাল দিয়ে দ্রুত নামিয়ে প্রথমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে নিয়ে যান।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আহসান হাবীব বলেন, “তার অবস্থা সিরিয়াস। মাথায় সেলাই লেগেছে, এমনকি চামড়া কেটে হাড় পর্যন্ত দেখা গেছে। চিকিৎসকরা ২৪ ঘণ্টা অবজারভেশনে রাখতে বলেছেন। বমি করা বা জ্ঞান হারানোর মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ইমারজেন্সিতে ভর্তি করাতে বলেছেন। আমি তার সঙ্গে হাসপাতালে ছিলাম।”
এদিকে, ঘটনার আগের দিনই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের মধ্যে শাটল ট্রেনের নিরাপত্তা ও চলাচল সংক্রান্ত একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হলেও তার পরদিনই এ ধরনের ঘটনা ঘটায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, শাটল ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ নতুন কোনো ঘটনা নয়; দীর্ঘদিন ধরেই ক্যান্টনমেন্টসহ কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এমন হামলার মুখোমুখি হচ্ছেন তারা। বারবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবগত করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ তাদের।
ট্রেনে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী নওরীন তাবাসসুম বলেন, “প্রতিনিয়ত এমন ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছি আমরা কেউ না কেউ। এই বিষয়ে বারবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবগত করা হলেও তাদের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না বললেই চলে। প্রশাসন যেন এসব বিষয়ে দায় এড়িয়ে চলে, অথচ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই।”
তিনি আরও বলেন, “এমন দায়সারা ও উদাসীন মনোভাব গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসনের কাছে জানতে চাই-আপনারা আদৌ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন কি না। একই সঙ্গে চাকসু প্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আপনারাও নিয়েছেন।”
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন পার হলেও এমন নিয়মিত সমস্যার সমাধান করতে না পারা প্রশাসনের দায়িত্বহীনতারই প্রমাণ। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে নিরাপত্তা জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে কঠোর নজরদারি এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ছাত্র প্রতিনিধিদের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছেন তারা।