{{ news.section.title }}
ইবিতে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া আসর সমাপ্ত, বাস্কেটবলে চ্যাম্পিয়ন স্বাগতিকরা
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) তিন দিনব্যাপী আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পর্দা নেমেছে। খেলায় শেষ দিনে বাস্কেটবল (পুরুষ) ইভেন্টে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে স্বাগতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
আজ বুধবার (৬ মে) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত ‘অ্যাথলেটিক্স (ছাত্র-ছাত্রী) ও বাস্কেটবল (ছাত্র)’ প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত এবং স্বাগতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও আয়োজকদের উপস্থিতিতে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
গত ৪ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অ্যাথলেটিক্স মাঠে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। দেশের ২১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় তিন দিনব্যাপী অ্যাথলেটিক্সের বিভিন্ন ইভেন্ট ও বাস্কেটবল খেলায় শিক্ষার্থীরা তাদের দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও দলগত পারদর্শিতা প্রদর্শন করে। প্রতিটি ইভেন্টে ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা, তবে সেই সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও ক্রীড়াসুলভ আচরণের অনন্য দৃষ্টান্তও লক্ষ্য করা যায়।
শেষ দিনের খেলায় বাস্কেটবল (পুরুষ) ইভেন্টে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হয়। শুরু থেকেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ও সুসংগঠিত খেলায় এগিয়ে থাকা স্বাগতিক দল প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে এবং নির্ধারিত সময়জুড়ে দারুণ সমন্বয়, দ্রুত পাসিং ও নিখুঁত শটের মাধ্যমে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ও পাল্টা লড়াইয়ে দৃঢ়তা দেখালেও শেষ পর্যন্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌশলী খেলায় তারা পিছিয়ে পড়ে।
এই জয়ে স্বাগতিক দলের খেলোয়াড়দের মাঝে উচ্ছ্বাসের বন্যা বইতে থাকে; একে অপরকে জড়িয়ে ধরে তারা আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়। গ্যালারিতে উপস্থিত সমর্থকদের করতালি, স্লোগান ও উল্লাসে পুরো মাঠ মুখর হয়ে ওঠে। বিজয়ের এই মুহূর্ত শুধু একটি শিরোপা অর্জনের আনন্দই নয়, বরং দলগত প্রচেষ্টা, অধ্যবসায় এবং ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার এক উজ্জ্বল স্বীকৃতি হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকে।
দেখা যায়, প্রতিযোগিতার পুরো সময়জুড়ে দর্শকসারিতে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। অংশগ্রহণকারী দলগুলো শুধু জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নামেনি; বরং পারস্পরিক বন্ধন দৃঢ় করা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার সংস্কৃতি বিকাশের মনোভাবও ছিল স্পষ্ট।
সমাপনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এসময় অংশগ্রহণকারী সকল বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্মাননা প্রদান করা হয়। আয়োজকদের ভাষ্য— এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের ক্রীড়াচর্চা ও সুস্থ মানসিকতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্ক জোরদার করে একটি ইতিবাচক ও প্রগতিশীল শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।