{{ news.section.title }}
কে-ড্রামা তারকাকে নিয়ে বিতর্কিত কনটেন্ট, গ্রেপ্তার হলেন ইউটিউবার
দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় কে-ড্রামা অভিনেতা কিম সু-হিয়ানকে নিয়ে মিথ্যা ও বিকৃত তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে ইউটিউবার কিম সে-উইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের প্রাক্-গ্রেপ্তার শুনানির পর আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। আদালত জানিয়েছে, প্রমাণ নষ্ট করা ও পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কিম সে-উই দক্ষিণ কোরিয়ার আলোচিত ইউটিউব চ্যানেল ‘হোভার ল্যাব’ বা ‘গারো সেরো রিসার্চ ইনস্টিটিউট’-এর প্রধান। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি অভিনেতা কিম সু-হিয়ান ও প্রয়াত অভিনেত্রী কিম সে-রনকে ঘিরে মিথ্যা দাবি প্রচার করেন। এসব দাবির মধ্যে ছিল, কিম সে-রন নাবালিকা থাকাকালে কিম সু-হিয়ানের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন এবং ঋণ পরিশোধের চাপের কারণে তার মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, তদন্তে এসব অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ইউটিউবার কিম সে-উই কাকাওটক বার্তার স্ক্রিনশট বিকৃত করেছিলেন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অডিও তৈরি করেছিলেন। ওই অডিও ও বার্তাগুলো এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যেন সেগুলো কিম সু-হিয়ান ও কিম সে-রনের কথোপকথন। তবে তদন্তে বলা হয়েছে, বার্তার নাম পরিবর্তন করে কিম সু-হিয়ানকে কথোপকথনের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছিল, যদিও তার সঙ্গে ওই বার্তাগুলোর সরাসরি সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
পুলিশের অভিযোগ, ইউটিউবারটি ভিউ, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়া এবং আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে এসব তথ্য ছড়িয়েছিলেন। আদালতে হাজির হয়ে কিম সে-উই অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং তদন্তকারীদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করবেন। তবে আদালত তার বক্তব্য গ্রহণ না করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
এর আগে কিম সু-হিয়ান সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছিলেন, তিনি কিম সে-রনের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন, তবে তা সে-রন প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর। তিনি নাবালিকা অবস্থায় সম্পর্কের অভিযোগ অস্বীকার করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কিম সে-রনের মৃত্যুর সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। পরে তিনি ইউটিউবভিত্তিক অভিযোগ প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে মানহানি ও তথ্য সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা করেন।
এই বিতর্কের কারণে কিম সু-হিয়ানের ক্যারিয়ারে বড় প্রভাব পড়ে। বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ড তার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে এবং তার অভিনীত ডিজনি প্লাস সিরিজ ‘নক-অফ’-এর মুক্তিও অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে যায়। দক্ষিণ কোরিয়ার বিনোদন অঙ্গনে ঘটনাটি এআই-নির্ভর ভুয়া কনটেন্ট, অনলাইন মানহানি ও তারকা সংস্কৃতির চাপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।