{{ news.section.title }}
ডেঙ্গুতে আরও ২ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২২০
দেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ২২০ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। রোববার (২১ জুন) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া দুজনই নারী। নতুন আক্রান্ত ২২০ জনের মধ্যে ৮৮ জন নারী রয়েছেন। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্কতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
নতুন আক্রান্তদের নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯০০ জনে। একই সঙ্গে এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ৯ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।
প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে জুন মাসে। এ মাসে এখন পর্যন্ত ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, জানুয়ারিতে ২ জন এবং মে মাসে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এডিস মশার বিস্তার বাড়তে থাকায় জুন মাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টির পানি জমে থাকা স্থানগুলো এডিস মশার প্রজননের জন্য সবচেয়ে উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন অংশ এবং খোলা পাত্রে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা ডিম পাড়ে। ফলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সমন্বিত মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীরে লালচে দাগ, বমি বমি ভাব এবং শরীর ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার পরও যদি রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে, তাহলে তা ডেঙ্গুর জটিল লক্ষণ হতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে জানিয়েছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাসাবাড়ি ও আশপাশের এলাকায় কোথাও যেন তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। একই সঙ্গে মশার কামড় থেকে বাঁচতে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বর্ষাকাল ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।