ভারতের উত্তর প্রদেশে ঈদের নামাজ ও কোরবানি নিয়ে নতুন নির্দেশনা

ভারতের উত্তর প্রদেশে ঈদের নামাজ ও কোরবানি নিয়ে নতুন নির্দেশনা
ছবির ক্যাপশান, ছবি : সংগৃহীত

ভারতের উত্তর প্রদেশে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নামাজ, কোরবানি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেছেন, খোলা জায়গা বা জনসমাগমস্থলে পশু কোরবানি দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে রাস্তা বন্ধ করে কোনোভাবেই ঈদের নামাজ আদায়ের অনুমতি দেওয়া হবে না।

রোববার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন যোগী আদিত্যনাথ। বৈঠকে রাজ্যের সব জেলা প্রশাসনকে ঈদুল আজহা ঘিরে আইনগত ও প্রচলিত নিয়মের মধ্যে থেকে সব কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়। ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেছেন, কোরবানি শুধু পূর্বনির্ধারিত ও অনুমোদিত স্থানে করা যাবে এবং কোনো নতুন প্রথা বা রীতি চালু করতে দেওয়া যাবে না।

 

নামাজের বিষয়ে তিনি নির্দেশ দেন, ঈদের নামাজ শুধু প্রচলিত ও নির্ধারিত ধর্মীয় স্থান-যেমন মসজিদ ও ঈদগাহে আদায় করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই নামাজের জন্য সড়ক বন্ধ করার অনুমতি দেওয়া যাবে না। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে, নামাজ আদায়ের কারণে কোনো সড়ক অবরুদ্ধ না হয়।

 

কোরবানির ক্ষেত্রেও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উত্তর প্রদেশ সরকার জানিয়েছে, জনসমাগমস্থল, রাস্তা, খোলা জায়গা বা অননুমোদিত স্থানে পশু কোরবানি করা যাবে না। কোরবানি দিতে হবে শুধু পূর্বনির্ধারিত ও প্রশাসন অনুমোদিত স্থানে। একই সঙ্গে আইন অনুযায়ী ‘নিষিদ্ধ পশু’ কোরবানির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ পশু কোরবানি বন্ধে প্রশাসনকে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

এ ছাড়া অবৈধ কসাইখানা নিয়েও কঠোর অবস্থান নিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, উৎসবের সময় কোনো অবৈধ জবাই কার্যক্রম চলতে দেওয়া যাবে না। বৈধ কসাইখানাগুলোতেও নির্ধারিত ধারণক্ষমতার বেশি পশু রাখা যাবে না। একই সঙ্গে খোলা জায়গায় মাংস বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে বলা হয়েছে। ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, কোরবানির পর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় প্রতিটি জেলায় পরিকল্পিত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

উৎসবের সময় নিরাপত্তা জোরদার করতেও আলাদা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংবেদনশীল এলাকায় ফ্ল্যাগ মার্চ, ধর্মীয় স্থাপনার আশপাশে নিয়মিত পুলিশি টহল এবং স্থানীয় শান্তি কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে বলা হয়েছে। আলিগড়, বিজনোর, সাহারানপুর, রামপুর ও সাম্ভলের মতো সংবেদনশীল জেলাগুলোর প্রশাসনিক ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেন যোগী আদিত্যনাথ। অতীতের ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলাকারীদের চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজন হলে আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

 

রাজ্য সরকার আরও জানিয়েছে, ঈদুল আজহার সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ, পানির ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য অপসারণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের গাফিলতি চলবে না। পৌরসভা ও স্থানীয় প্রশাসনকে কোরবানির পর বর্জ্য দ্রুত অপসারণ এবং জনদুর্ভোগ এড়াতে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর প্রদেশে ধর্মীয় উৎসব ঘিরে প্রশাসনিক নির্দেশনা নতুন নয়। তবে এবার সড়কে নামাজ, খোলা স্থানে কোরবানি, নিষিদ্ধ পশু, অবৈধ কসাইখানা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা-সবকিছু নিয়ে একসঙ্গে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকার বলছে, এর উদ্দেশ্য হলো আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং উৎসবকে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা।

 

তবে এসব নির্দেশনার বাস্তবায়ন নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের ওপর বড় দায়িত্ব পড়বে। কারণ ঈদুল আজহার সময় বিপুলসংখ্যক মানুষ নামাজে অংশ নেন এবং বিভিন্ন এলাকায় কোরবানি হয়। তাই নির্দেশনার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয়, ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা এবং নাগরিকদের সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

 

উত্তর প্রদেশে এবারের ঈদুল আজহা ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতি কঠোর ও নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মধ্যে নেওয়া হচ্ছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, নামাজ নির্ধারিত স্থানে, কোরবানি অনুমোদিত স্থানে এবং পুরো প্রক্রিয়া আইনশৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে সম্পন্ন করতে হবে।

 

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, এনডিটিভি


সম্পর্কিত নিউজ