{{ news.section.title }}
চীন-পাকিস্তান দুই ফ্রন্টের চ্যালেঞ্জে প্রস্তুত ভারত: নৌপ্রধান
ভারত মহাসাগর অঞ্চলে চীন ও পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক তৎপরতা এবং উদীয়মান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারতীয় নৌবাহিনী প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল দিনেশ কে ত্রিপাঠি। তিনি বলেছেন, সামুদ্রিক ক্ষেত্রে যেকোনো জটিল বা ‘দ্বিমুখী’ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারতের প্রস্তুতি সক্ষমতা-ভিত্তিক ও হুমকি-নির্ভর।
এক সাক্ষাৎকারে অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠি বলেন, ভারত মহাসাগর অঞ্চল এখন ক্রমবর্ধমান কৌশলগত প্রতিযোগিতার কেন্দ্র হয়ে উঠছে। এই অঞ্চলে বহিরাগত শক্তির উপস্থিতি বাড়ছে। তাঁর ভাষায়, পরিস্থিতি এখন ‘সহযোগিতার যুগ’ থেকে ‘তীব্র প্রতিযোগিতার যুগে’ প্রবেশ করেছে।
চীন ও পাকিস্তানের সামুদ্রিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করে ভারতীয় নৌপ্রধান বলেন, চীনের পিএলএ নেভির ভারত মহাসাগরে উপস্থিতি এবং পাকিস্তান নৌবাহিনীর আধুনিকায়নে বেইজিংয়ের সহায়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান নৌবাহিনীতে চীনে নির্মিত ডিজেল-ইলেকট্রিক আক্রমণাত্মক সাবমেরিন যুক্ত হওয়ার বিষয়টিও ভারতের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে গুরুত্ব পাচ্ছে।
অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠি বলেন, ভারতের প্রস্তুতি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে নয়। বরং এর উদ্দেশ্য হলো ভারতের সামুদ্রিক স্বার্থের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একটি স্থিতিশীল, মুক্ত, উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখা। তাঁর মতে, যেকোনো জটিল বা দুই ফ্রন্টের চ্যালেঞ্জের জবাব হলো সক্ষমতার ভিত্তিতে বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ।
ভারতীয় নৌপ্রধান জানান, নৌবাহিনী ইতোমধ্যে সাবমেরিন বিধ্বংসী যুদ্ধক্ষমতা, পানির নিচের নজরদারি, সামুদ্রিক ডোমেইন সচেতনতা, দীর্ঘ-পাল্লার সামুদ্রিক রিকনাইস্যান্স এবং নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করেছে। সেন্সর, অস্ত্রব্যবস্থা ও কমান্ড নেটওয়ার্কের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতাও উন্নত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ভারতীয় নৌবাহিনীর ‘মিশন-ভিত্তিক’ মোতায়েন গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ, সংকীর্ণ সামুদ্রিক প্রবেশপথ এবং বাণিজ্যিক রুটগুলোতে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করছে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ভারতের সক্ষমতা বাড়ছে।
অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠির মতে, প্রতিরোধক্ষমতা শুধু জাহাজের সংখ্যা দিয়ে নির্ধারিত হয় না। এটি নির্ভর করে কার্যকর সামরিক সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত সমন্বয়, যুদ্ধপ্রস্তুতি, স্থায়ী উপস্থিতি এবং প্রয়োজন হলে প্রতিপক্ষকে মূল্য দিতে বাধ্য করার সক্ষমতার ওপর।
ভারতীয় নৌবাহিনী বর্তমানে নিজেদের আধুনিকায়ন কর্মসূচির ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রজেক্ট ৭৫ ইন্ডিয়া কর্মসূচির আওতায় ছয়টি স্টেলথ সাবমেরিন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ২০০টির বেশি জাহাজের নৌবহর গঠনের বৃহত্তর লক্ষ্য নিয়েও কাজ করছে ভারত। নৌপ্রধানের ভাষায়, ভবিষ্যতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিবেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নৌবাহিনীর কাঠামো, মোতায়েন কৌশল ও অভিযান পরিচালনার ধরন নিয়মিতভাবে হালনাগাদ করা হচ্ছে।
চলমান বৈশ্বিক সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে অ্যাডমিরাল ত্রিপাঠি বলেন, পশ্চিম এশিয়া থেকে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত সামুদ্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ এখন পরস্পর সংযুক্ত। কোনো সংঘাত ভৌগোলিকভাবে দূরে হলেও তার প্রভাব জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য, সরবরাহব্যবস্থা ও অর্থনীতিতে পড়তে পারে। তাই সামুদ্রিক নিরাপত্তা এখন জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারত মহাসাগর অঞ্চলে চীন-পাকিস্তান ঘনিষ্ঠতা ভারতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বিশেষ করে সাবমেরিন সক্ষমতা, বন্দর অবকাঠামো, নজরদারি ব্যবস্থা ও নৌ উপস্থিতি বৃদ্ধির ফলে এই অঞ্চলে কৌশলগত প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হচ্ছে।
তবে ভারতীয় নৌবাহিনী বলছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের প্রস্তুতি বহুমাত্রিক। নজরদারি, প্রযুক্তি, সাবমেরিনবিরোধী যুদ্ধ, নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক অভিযান এবং দ্রুত মোতায়েন সক্ষমতার মাধ্যমে ভারত সমুদ্রপথে নিজের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রস্তুত রয়েছে।