{{ news.section.title }}
হরমুজে তেলবাহী জাহাজে ইরানের হামলায় ভারতীয় নাবিক নিহত
হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় একজন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও আটজন, যাদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় এবং দুজন ইউক্রেনের নাগরিক। আহতদের মধ্যে অন্তত চারজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে ইউএই কর্তৃপক্ষ। হামলার পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সোমবার (১৪ জুলাই) ওমানের জলসীমায় হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ লেন দিয়ে চলাচলের সময় ‘মোমবাসা’ এবং ‘আল বাহিয়াহ’ নামের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটে। ইউএইর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইরানের দিক থেকে নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখনো চলছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন ও বাণিজ্যিক নৌপরিবহনের স্বাধীনতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে হামলার ঘটনায় জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে আবুধাবি।
হামলার পর হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই নৌপথে যেকোনো নিরাপত্তা সংকট সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলে।
জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে চার সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে সংঘাত আরও বাড়লে তেলের দাম আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনার বিরুদ্ধে নতুন দফায় অভিযান শুরু করেছে। সেন্টকমের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা দুর্বল করতেই এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে অভিযান অব্যাহত রাখবে এবং হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুবিধা নেওয়া দেশগুলোর কাছ থেকে এ সেবার ব্যয় ভাগাভাগির বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ইরান এখনো ট্যাংকারে হামলার অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। তেহরান বরাবরের মতোই দাবি করে আসছে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা তাদের রয়েছে এবং এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিই বর্তমান উত্তেজনার মূল কারণ।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে ধারাবাহিক হামলার ঘটনা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, শিপিং খরচ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।