মন্ত্রিসভার আকার বাড়ালেন শুভেন্দু, একদিনেই ৩৫ জনের শপথ

মন্ত্রিসভার আকার বাড়ালেন শুভেন্দু, একদিনেই ৩৫ জনের শপথ
ছবির ক্যাপশান, মন্ত্রিসভার আকার বাড়ালেন শুভেন্দু, একদিনেই ৩৫ জনের শপথ

পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির নতুন সরকারের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে। সোমবার রাজভবনে আয়োজিত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে একসঙ্গে ৩৫ জন নতুন মন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। এই সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য মন্ত্রিসভার আকার আরও বড় হলো।

সোমবার বেলা ১১টার দিকে নতুন মন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় বিজেপির শীর্ষ নেতারা, নবনির্বাচিত বিধায়ক এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে রাজভবন এলাকায় ছিল কড়া নিরাপত্তা।

 

নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে ১৩ জন পূর্ণমন্ত্রী, ৩ জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ১৯ জন রাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে শুভেন্দু সরকারের মন্ত্রিসভার মোট সদস্যসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১ জনে। রাজ্যের বিধানসভা আসনসংখ্যা অনুযায়ী মন্ত্রিসভায় সর্বোচ্চ ৪৪ জন সদস্য রাখা যায়। ফলে ভবিষ্যতে আরও কয়েকজনকে মন্ত্রিসভায় যুক্ত করার সুযোগ থাকছে।

 

শপথ নেওয়া মন্ত্রীদের মধ্যে তাপস রায়, অর্জুন সিং, শঙ্কর ঘোষ, স্বপন দাশগুপ্ত ও অশোক দিন্দার মতো পরিচিত মুখ রয়েছেন। পাশাপাশি নতুন কয়েকজন বিধায়ককেও মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক গুরুত্ব, আঞ্চলিক ভারসাম্য এবং সামাজিক প্রতিনিধিত্ব বিবেচনায় মন্ত্রিসভার তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

 

নতুন মন্ত্রিসভায় উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণবঙ্গ, জঙ্গলমহল ও সীমান্তবর্তী এলাকার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সম্প্রদায়, পেশাজীবী ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার প্রশাসনিক কাজ দ্রুত শুরু করার পাশাপাশি ভোটের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা অঞ্চলগুলোকে গুরুত্ব দিতে চেয়েছে।

 

সম্প্রতি সমাপ্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় জয় পায় বিজেপি। ২৯৪ আসনের বিধানসভায় দলটি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে। দীর্ঘদিনের তৃণমূল শাসনের অবসানের পর রাজ্যে বিজেপির প্রথম সরকার গঠিত হওয়ায় এই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ রাজনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

 

এর আগে ৯ মে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। তার সঙ্গে প্রথম দফায় আরও কয়েকজন মন্ত্রী শপথ নিয়েছিলেন। এবার ৩৫ জন নতুন মন্ত্রী যুক্ত হওয়ায় প্রশাসনিক কাঠামো কার্যত পূর্ণতা পেল।

 

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে বাঙালি ঐতিহ্যবাহী পোশাকের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেক মন্ত্রী ধুতি-পাঞ্জাবি পরে শপথ নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় গীত এবং শেষে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।

 

নতুন মন্ত্রীদের শপথের পর এখন সবার নজর দফতর বণ্টনের দিকে। নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে নতুন মন্ত্রীদের বৈঠকে বিভিন্ন দফতরের দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে। অর্থ, স্বরাষ্ট্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, পরিবহন, কৃষি ও নগরোন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতর কারা পাবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

 

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক গতি বাড়ানো এবং রাজ্যের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া। নতুন মন্ত্রিসভার মাধ্যমে রাজ্য সরকার সেই কাজের প্রস্তুতি শুরু করল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের নতুন মন্ত্রিসভা শুধু প্রশাসনিক সম্প্রসারণ নয়, এটি রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে। বিজেপি এই মন্ত্রিসভার মাধ্যমে রাজ্যের ভৌগোলিক ও সামাজিক বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিতে চেয়েছে। একই সঙ্গে অভিজ্ঞ নেতা ও নতুন মুখের সমন্বয়ে সরকার পরিচালনায় ভারসাম্য আনার চেষ্টা করা হয়েছে।

 

সব মিলিয়ে ৩৫ জন নতুন মন্ত্রীর শপথের মধ্য দিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার পূর্ণাঙ্গ রূপ পেল। এখন নতুন মন্ত্রিসভার ওপরই নির্ভর করছে রাজ্যে প্রশাসনিক পরিবর্তন, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের গতি কতটা দ্রুত এগোয়।


সম্পর্কিত নিউজ