কলকাতায় আবারও বাড়ল বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম

কলকাতায় আবারও বাড়ল বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম
ছবির ক্যাপশান, ছবি : সংগৃহীত

কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গজুড়ে আবারও বাড়ানো হয়েছে বাণিজ্যিক এলপিজি (LPG) গ্যাসের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯ কেজির একটি বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৫৩ দশমিক ৫০ রুপি বৃদ্ধি পেয়ে ৩ হাজার ২৫৫ দশমিক ৫০ রুপিতে পৌঁছেছে। নতুন এই মূল্য ইতোমধ্যেই কার্যকর হয়েছে। অন্যদিকে গৃহস্থালির কাজে ব্যবহৃত ১৪.২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম আগের মতোই ৯৩৯ রুপিতে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন কোম্পানিগুলো প্রতি মাসের শুরুতে জ্বালানি পণ্যের মূল্য পর্যালোচনা করে থাকে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার চলমান অস্থিরতা, জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবেই বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম আবারও বাড়ানো হয়েছে।

 

নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, কলকাতায় বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম দেশের প্রধান মহানগরীগুলোর মধ্যে অন্যতম উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দিল্লিতে একই ১৯ কেজির সিলিন্ডারের দাম এখন ৩ হাজার ১১৩ দশমিক ৫০ রুপি হলেও স্থানীয় কর ও পরিবহন ব্যয়ের কারণে কলকাতায় এর মূল্য আরও বেশি হয়েছে।

 

এদিকে কেন্দ্রীয় সরকার রান্নার গ্যাস ব্যবহারে নতুন বিধিনিষেধও আরোপ করেছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, একই বাড়িতে পাইপলাইনের গ্যাস (PNG) এবং এলপিজি সিলিন্ডার একসঙ্গে ব্যবহার করা যাবে না। কোনো বাড়িতে যদি পাইপলাইনের গ্যাস সংযোগ থাকে, তাহলে এলপিজি সংযোগ বাতিল করতে হবে। সরকারের দাবি, এতে নিরাপত্তা ঝুঁকি কমবে এবং গ্যাস ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে।

 

তবে নতুন করে গ্যাসের দাম বাড়ায় সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে পড়েছেন হোটেল, রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান ও ছোট খাবারের ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, চলতি বছরের শুরু থেকেই একের পর এক মূল্যবৃদ্ধির কারণে ব্যবসার খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।

 

বিশেষ করে গত মে মাসে নজিরবিহীনভাবে বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম প্রায় এক হাজার রুপি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। সেই ধাক্কা সামলানোর আগেই জুনের শুরুতে আবারও দাম বাড়ানো হলো। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক মাসের ব্যবধানে বাণিজ্যিক গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি রেস্তোরাঁ খাতের জন্য বড় চাপ তৈরি করেছে।

 

কলকাতার একাধিক হোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিক সংগঠন জানিয়েছে, ক্রমাগত বাড়তি গ্যাস খরচ নিজেদের বহন করা তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান খাবারের দাম বাড়ানোর চিন্তা করছে। কেউ কেউ আবার মেন্যু পুনর্বিন্যাস এবং উৎপাদন খরচ কমানোর বিকল্প উপায় খুঁজছে।

 

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাণিজ্যিক গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব সাধারণ ভোক্তাদের ওপরও পড়তে পারে। কারণ রেস্তোরাঁ, হোটেল ও খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বাড়তি খরচ শেষ পর্যন্ত খাবারের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে থাকে। এতে শহরাঞ্চলে খাদ্যসেবার খরচ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

এদিকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা এমনিতেই সংকটে রয়েছেন। এর মধ্যে বারবার বাণিজ্যিক জ্বালানির দাম বাড়ানো ব্যবসায়িক খরচ ও বাজারমূল্যের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করবে।

 

তবে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা মোকাবিলায় এলপিজি মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূল্য সমন্বয় করা হলেও সাধারণ পরিবারের ওপর চাপ কমাতে গৃহস্থালি গ্যাসের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

 

ফলে বাণিজ্যিক গ্যাসের নতুন মূল্যবৃদ্ধি পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসায়ী মহলে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। আগামী দিনে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে এই মূল্যবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে নাকি বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে।


সম্পর্কিত নিউজ