চীনের বিরুদ্ধে ভারতের ‘ট্রাম্প কার্ড’ কি গ্রেট নিকোবর?

চীনের বিরুদ্ধে ভারতের ‘ট্রাম্প কার্ড’ কি গ্রেট নিকোবর?
ছবির ক্যাপশান, এআই ছবি

ভারত মহাসাগরে কৌশলগত প্রভাব বাড়াতে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে নিজেদের উপস্থিতি জোরদার করতে গ্রেট নিকোবর দ্বীপকে ঘিরে বড় ধরনের মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ভারত। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার দ্বীপটিকে একটি বড় অর্থনৈতিক, সামরিক ও সামুদ্রিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। তবে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের এই প্রকল্প ঘিরে ভারতের রাজনীতি, পরিবেশ আন্দোলন ও আদিবাসী অধিকার প্রশ্নে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

গ্রেট নিকোবর ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে অনেক দূরে হলেও এর ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্বীপটি ভারতের দক্ষিণতম প্রান্তে অবস্থিত এবং থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার উপকূলের কাছাকাছি। এটি মালাক্কা প্রণালির পশ্চিম প্রবেশপথের কাছাকাছি হওয়ায় সামুদ্রিক নজরদারি ও বাণিজ্যিক রুট নিয়ন্ত্রণের দৃষ্টিকোণ থেকে ভারতের কাছে এর গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।

 

মালাক্কা প্রণালি বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বিপুল পরিমাণ পণ্য ও জ্বালানি এই পথ দিয়ে চলাচল করে। বিশেষ করে চীনের জন্য এই পথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশটির অপরিশোধিত তেল আমদানির বড় অংশ এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের উল্লেখযোগ্য অংশ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। এ কারণেই বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ভবিষ্যতে গ্রেট নিকোবর ভারতের জন্য এমন একটি কৌশলগত অবস্থান তৈরি করতে পারে, যা ভারত মহাসাগরে দেশটির সামুদ্রিক নজরদারি ক্ষমতা বহুগুণ বাড়াবে।

 

ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবেক ভাইস চিফ শেখর সিনহা বলেছেন, গ্রেট নিকোবর মালাক্কা প্রণালির মুখে অবস্থিত। এখান থেকে প্রণালিতে প্রবেশ ও বের হওয়া জাহাজ চলাচলের ওপর নজর রাখা সম্ভব। তার মতে, দ্বীপটির উন্নয়ন ভারতের সামুদ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

 

মোদি সরকারের মেগা প্রকল্পে যা থাকছে

ভারত সরকার গ্রেট নিকোবর দ্বীপে একটি আন্তর্জাতিক কনটেইনার ট্রান্সশিপমেন্ট টার্মিনাল, বেসামরিক ও সামরিক কাজে ব্যবহারের উপযোগী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র, পর্যটন অবকাঠামো এবং নতুন টাউনশিপ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে। সরকারি পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, দ্বীপে একটি বড় সমুদ্রবন্দর তৈরি করা হবে, যা ভারতকে সিঙ্গাপুর, কলম্বো ও ক্লাংয়ের মতো বিদেশি ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরের ওপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে।

 

ভারতের সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, গালাথিয়া বে এলাকায় প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক কনটেইনার ট্রান্সশিপমেন্ট টার্মিনালের ধারণক্ষমতা হবে ১ কোটি ৪২ লাখ টিইইউ। পাশাপাশি ৪ হাজার পিক আওয়ার যাত্রী ধারণক্ষমতার গ্রিনফিল্ড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ৪৫০ এমভিএ গ্যাস ও সৌরভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ১৬ হাজার ৬১০ হেক্টর এলাকাজুড়ে নতুন জনপদ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

সরকারের দাবি, এই প্রকল্প শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য নয়; বরং জাতীয় নিরাপত্তা, সামরিক উপস্থিতি এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতের কৌশলগত অবস্থান জোরদারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, গ্রেট নিকোবর প্রকল্পের লক্ষ্য আন্দামান সাগর ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতের উপস্থিতি বাড়ানো, দ্বীপাঞ্চলের অর্থনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করা এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করা।

 

প্রকল্পটি তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত, দ্বিতীয় ধাপে ২০৩৬ থেকে ২০৪১ সাল পর্যন্ত এবং তৃতীয় ধাপে ২০৪২ থেকে ২০৪৭ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। মোট ১৬৬ দশমিক ১০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে, যার একটি বড় অংশ বনভূমির অন্তর্ভুক্ত।

 

কেন গ্রেট নিকোবর এত গুরুত্বপূর্ণ

গ্রেট নিকোবর দ্বীপটি ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের সংযোগপথের কাছাকাছি অবস্থিত। মালাক্কা প্রণালি দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে পূর্ব এশিয়ায় তেল ও পণ্য পরিবহন হয়। চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতির জন্য এই পথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই অঞ্চলে নজরদারি সক্ষমতা বাড়ানো ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

 

ভারতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, গ্রেট নিকোবর উন্নয়ন করা হলে ভারত মালাক্কা অঞ্চলে আরও কার্যকর সামুদ্রিক নজরদারি চালাতে পারবে। এটি চীনের তথাকথিত ‘মালাক্কা সংকট’ বা মালাক্কা-নির্ভরতার প্রশ্নে ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে। কারণ কোনো বড় ভূরাজনৈতিক সংকটে এই পথের নিরাপত্তা ও প্রবাহ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

 

তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ সরাসরি মালাক্কা প্রণালি অবরোধের ধারণাকে বাস্তবসম্মত মনে করেন না। তাদের মতে, হরমুজ প্রণালির মতো মালাক্কা প্রণালিও সরাসরি ভারতের নিয়ন্ত্রণে নয়। এই প্রণালি মূলত ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর অঞ্চলের জলপথের সঙ্গে যুক্ত। তাই ভারত সহজে এটি বন্ধ করে দিতে পারবে-এমন ধারণা অতিরঞ্জিত। তবে গ্রেট নিকোবর ভারতের জন্য অগ্রবর্তী নজরদারি কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

পরিবেশ ও আদিবাসী জনগোষ্ঠী নিয়ে শঙ্কা

প্রকল্পটি শুরু থেকেই পরিবেশবিদ, গবেষক, আদিবাসী অধিকারকর্মী ও বিরোধী রাজনীতিকদের সমালোচনার মুখে পড়েছে। গ্রেট নিকোবর দ্বীপে শম্পেন ও নিকোবারি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস। শম্পেনরা মূলত বননির্ভর, আধা-যাযাবর এবং বহির্বিশ্বের সঙ্গে সীমিত যোগাযোগ রাখে। নিকোবারি জনগোষ্ঠীও দ্বীপের উপকূলীয় জীবন ও প্রকৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

 

সমালোচকদের অভিযোগ, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমি, সংস্কৃতি, জীবনধারা ও নিরাপত্তা গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। দ্বীপটির বর্তমান জনসংখ্যা ১০ হাজারেরও কম। অথচ প্রকল্পের অংশ হিসেবে আগামী কয়েক দশকে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষের বসতি গড়ার পরিকল্পনার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এতে দ্বীপের জনসংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাবে এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চাপ তৈরি হতে পারে।

 

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক গণহত্যা-বিষয়ক কয়েক ডজন বিশেষজ্ঞ ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি দিয়ে সতর্ক করেছিলেন, এই প্রকল্প শম্পেন জনগোষ্ঠীর অস্তিত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি হতে পারে। তাদের ভাষায়, এটি শম্পেন জনগোষ্ঠীর জন্য ‘মৃত্যুদণ্ডের’ মতো পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

 

পরিবেশবিদরা বলছেন, গ্রেট নিকোবর ভারতের অন্যতম জীববৈচিত্র্যপূর্ণ দ্বীপ। এখানে ঘন ক্রান্তীয় বন, উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র, বিরল পাখি, সরীসৃপ, সামুদ্রিক প্রাণী এবং বিপন্ন প্রজাতির বাসস্থান রয়েছে। গালাথিয়া বে ভারত মহাসাগর অঞ্চলে লেদারব্যাক কচ্ছপের গুরুত্বপূর্ণ বাসা বাঁধার স্থান হিসেবেও পরিচিত। প্রকল্পের কারণে এই উপকূলীয় পরিবেশে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

ভারতের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিপুলসংখ্যক গাছ কাটতে হতে পারে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রায় ৮ লাখ ৬০ হাজার থেকে ৯ লাখ ৬০ হাজার গাছ কাটার আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, বাস্তব ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। তাদের মতে, বনভূমি, প্রবালপ্রাচীর, উপকূলীয় এলাকা ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলে বড় ধরনের স্থায়ী প্রভাব পড়তে পারে।

 

ভূমিকম্প ও সুনামির ঝুঁকি

গ্রেট নিকোবর ভারতের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। দ্বীপটি সিসমিক জোন-৫-এর অন্তর্ভুক্ত, যা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণির মধ্যে পড়ে। ২০০৪ সালের ভয়াবহ ভারত মহাসাগরীয় সুনামির সময় গ্রেট নিকোবরের দক্ষিণাংশ বড় ক্ষতির মুখে পড়ে। ইন্দিরা পয়েন্ট এলাকার জমি কয়েক মিটার নিচে দেবে যায় এবং বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। ওই এলাকার বাতিঘরের একটি অংশ আজও সমুদ্রের পানিতে আংশিক নিমজ্জিত অবস্থায় রয়েছে।

 

পরিবেশবিদ ও গবেষকদের মতে, এমন একটি ভঙ্গুর ও ভূমিকম্প-সুনামিপ্রবণ দ্বীপে এত বড় অবকাঠামো নির্মাণের আগে ঝুঁকি মূল্যায়ন আরও গভীরভাবে করা দরকার। তাদের আশঙ্কা, বন্দর, বিমানবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র, রাস্তা ও নতুন জনপদ নির্মাণের কারণে দ্বীপের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।

 

সরকার অবশ্য দাবি করছে, প্রকল্পের আগে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, পরিবেশ, পানি, বায়ু, শব্দ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র, মানবস্বাস্থ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বনভূমির ক্ষতির বিপরীতে ক্ষতিপূরণমূলক বনায়নের পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছে।

 

বিরোধীদের তীব্র আপত্তি

ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী সম্প্রতি গ্রেট নিকোবর সফর করে স্থানীয় বাসিন্দা, আন্দোলনকারী ও ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেছেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি অভিযোগ করেন, সরকার এটিকে উন্নয়ন প্রকল্প বললেও বাস্তবে মানুষের ঘরবাড়ি ও ভূমি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মতামত উপেক্ষা করা হচ্ছে।

 

রাহুল গান্ধীর ভাষায়, এটি উন্নয়নের নামে সাজানো ধ্বংসযজ্ঞ। তিনি প্রকল্পটিকে ভারতের প্রাকৃতিক ও আদিবাসী ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অপরাধ বলেও মন্তব্য করেছেন।

 

কংগ্রেসসহ বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, প্রকল্পটি নিয়ে যথেষ্ট স্বচ্ছতা নেই এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠী, পরিবেশবিদ, নৃতত্ত্ববিদ ও নাগরিক সমাজের উদ্বেগ যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। তারা সংসদে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা এবং প্রকল্পের পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানাচ্ছে।

 

অন্যদিকে সরকার ও প্রকল্প-সমর্থকদের বক্তব্য, গ্রেট নিকোবর ভারতের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও সামরিক স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভারতেরও নিজের ভূকৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করা প্রয়োজন। গভীর সমুদ্রবন্দর ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হলে ভারত বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হবে এবং সামরিক নজরদারিতেও সুবিধা পাবে।

 

উন্নয়ন নাকি দীর্ঘমেয়াদি দায়

গ্রেট নিকোবর প্রকল্পকে ঘিরে এখন মূল প্রশ্ন হলো-এটি ভারতের জন্য ভবিষ্যতের কৌশলগত সম্পদ হবে, নাকি পরিবেশ ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর দীর্ঘমেয়াদি দায় হয়ে দাঁড়াবে। সরকার বলছে, প্রকল্পটি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বাণিজ্যিক সংযোগ, পর্যটন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থকে একসঙ্গে এগিয়ে নেবে। কিন্তু সমালোচকদের মতে, এর অর্থনৈতিক লাভ অনিশ্চিত হলেও পরিবেশগত ক্ষতি হতে পারে নিশ্চিত ও ব্যাপক।

 

আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করা বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, প্রকল্পটি মূলত বাণিজ্যিক উদ্যোগ হিসেবে পরিকল্পিত হলেও এখন সেটিকে জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তিতে আরও শক্তভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, দ্বীপটির ভঙ্গুর পরিবেশ, অল্পসংখ্যক আদিবাসী জনগোষ্ঠী, সুনামি-ভূমিকম্প ঝুঁকি এবং বিরল জীববৈচিত্র্য বিবেচনায় না নিলে প্রকল্পটি ভারতের জন্য উন্নয়নের বদলে বড় ধরনের দায়ে পরিণত হতে পারে।

 

গ্রেট নিকোবর প্রকল্প এখন শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়। এটি ভারতের অর্থনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা, সামরিক কৌশল, চীনের সঙ্গে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং আদিবাসী অধিকার-সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে আছে। প্রকল্পটি এগোলে ভারত মালাক্কা প্রণালির মুখে আরও দৃশ্যমান শক্তি হিসেবে হাজির হতে পারে। তবে সেই শক্তির মূল্য কতটা পরিবেশ, মানুষ ও ইতিহাসকে দিতে হবে-এ প্রশ্নের উত্তর এখনো বিতর্কের মধ্যেই রয়ে গেছে।

 

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা


সম্পর্কিত নিউজ