{{ news.section.title }}
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার পথে এলো বড় পরিবর্তন
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা ‘গ্রিন কার্ড’ পাওয়ার নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, অস্থায়ী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকরা আর দেশটির ভেতরে থেকে গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন না।
তাদের নিজ দেশে ফিরে গিয়ে মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা অভিবাসন ব্যবস্থায় এটি অন্যতম বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তে লাখো অভিবাসী, শিক্ষার্থী, প্রযুক্তি খাতের কর্মী ও পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীরা অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারেন।
মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা এক নীতিগত নির্দেশনায় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থেকে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার সুযোগ এখন থেকে শুধুমাত্র “ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে” বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ আগে যেভাবে অস্থায়ী ভিসাধারীরা দেশ ছাড়াই স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতেন, সেই সুযোগ প্রায় পুরোপুরি সীমিত করা হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, অভিবাসন আইনের মূল উদ্দেশ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থী, পর্যটক বা অস্থায়ী কর্মীরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন এবং তাদের সেই সময় শেষ হলে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কথা।
নতুন এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে কর্মসংস্থানভিত্তিক ও পরিবারভিত্তিক অভিবাসন প্রক্রিয়ায়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, প্রতিবছর প্রায় ছয় লাখের বেশি মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থেকেই গ্রিন কার্ডের আবেদন করেন। এদের মধ্যে রয়েছেন মার্কিন নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রী, উচ্চশিক্ষারত শিক্ষার্থী, প্রযুক্তি খাতের কর্মী, গবেষক, আশ্রয়প্রার্থী এবং শরণার্থীরা। এখন তাদের আবেদন প্রক্রিয়ার জন্য নিজ দেশে ফিরে যেতে হলে পরিবার বিচ্ছিন্নতা, চাকরি হারানো এবং দীর্ঘ প্রশাসনিক জটিলতার ঝুঁকি তৈরি হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নীতি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও গবেষণা খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কারণ বহু বিদেশি দক্ষ কর্মী বর্তমানে অস্থায়ী কর্মভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করছেন এবং পরবর্তীতে গ্রিন কার্ডের মাধ্যমে স্থায়ী হওয়ার পরিকল্পনা করছেন। নতুন নিয়মে তাদের অনেককে চাকরি ছেড়ে নিজ দেশে ফিরে যেতে হতে পারে। এতে দক্ষ জনবল সংকটে পড়তে পারে বিভিন্ন মার্কিন প্রতিষ্ঠান। কিছু বিশ্লেষকের মতে, এটি শুধু অবৈধ অভিবাসন নয়, বৈধ অভিবাসনের পথও কঠিন করে তুলছে।
মানবাধিকার ও শরণার্থী সহায়তা সংস্থাগুলো এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ‘হায়াস’ জানিয়েছে, মানবপাচারের শিকার ব্যক্তি, নির্যাতিত নারী ও শিশু এবং রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য এই নীতি ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করবে। কারণ তাদের অনেকেই প্রাণভয়ে নিজ দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়েছিলেন। এখন আবার সেই দেশেই ফিরে গিয়ে আবেদন করতে বাধ্য হলে তাদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
অভিবাসন আইনজীবীরাও নতুন নীতির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কারণ “ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি” বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে কোন আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে থেকে আবেদন করার সুযোগ পাবেন আর কে পাবেন না, তা পুরোপুরি অভিবাসন কর্মকর্তাদের বিবেচনার ওপর নির্ভর করবে। এতে অনিশ্চয়তা ও বৈষম্যের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের দীর্ঘদিনের কঠোর অভিবাসন নীতিরই ধারাবাহিকতা। এর আগে শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির ভিসার মেয়াদ কমানো, হাজার হাজার ভিসা বাতিল, শরণার্থী আটক নীতিমালা কঠোর করা এবং অভিবাসীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণসহ একাধিক পদক্ষেপ নেয় প্রশাসন। নতুন গ্রিন কার্ড নীতিকে সেই কঠোর অবস্থানের আরও বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অভিবাসন ফোরামগুলোতে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা গেছে। অনেক আবেদনকারী জানিয়েছেন, তারা বছরের পর বছর ধরে পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এবং এখন হঠাৎ দেশ ছাড়তে বাধ্য হলে তাদের জীবন-জীবিকা অনিশ্চয়তায় পড়ে যাবে। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হতে দীর্ঘ সময় লাগলে তারা আর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসতে পারবেন না।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স