স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার না থাকলে কে নেতৃত্ব দেবেন?

স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার না থাকলে কে নেতৃত্ব দেবেন?
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলী (প্যানেল অব চেয়ারম্যানস) মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার কোনো কারণে অধিবেশনে উপস্থিত থাকতে না পারলে সংসদের কার্যক্রম পরিচালনা ও সভাপতিত্ব করবেন এই পাঁচ সদস্য।

রোববার (৭ জুন) বিকেল ৩টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন তথা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন শুরু হওয়ার পর স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) এ মনোনয়ন ঘোষণা করেন।

 

স্পিকারের মনোনীত সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. এম ওসমান ফারুক, জয়নুল আবেদীন, মো. শাহজাহান এবং শাহজাহান চৌধুরী।

 

জাতীয় সংসদের বিধি অনুযায়ী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরা পর্যায়ক্রমে অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন এবং সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনা করেন। সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে এই প্যানেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

 

রোববার শুরু হওয়া এ অধিবেশন বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন হওয়ায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উভয় দিক থেকেই বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এই অধিবেশন আহ্বান করেন।

 

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের বাজেট অধিবেশনে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, রাজস্ব আহরণ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণসহ গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয়ে আলোচনা হবে।

 

অধিবেশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১১ জুন, যখন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রস্তাব সংসদে উপস্থাপন করবেন।

 

সরকার আগামী অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রণয়নের পরিকল্পনা করেছে, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ বাজেট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি ও খাদ্যবাজারের চাপ, ভর্তুকি ব্যয় বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ, ঋণের সুদ পরিশোধ এবং সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের কারণে ব্যয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে।

 

অর্থনীতিবিদদের মতে, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হলেও প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য বাজেট ঘাটতি আগামী অর্থবছরের জন্য সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

 

এ কারণে আসন্ন বাজেট অধিবেশনকে শুধু একটি নিয়মিত সংসদীয় অধিবেশন নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হিসেবে দেখা হচ্ছে।


সম্পর্কিত নিউজ