{{ news.section.title }}
মামলার রায়ে সন্তুষ্ট, আশা করি উচ্চ আদালতেও রায় কার্যকর থাকবে
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, রামিসার এই বেদনাদায়ক ঘটনায় নিম্ন আদালত যে রায় দিয়েছেন এতে আমরা আপাতত সন্তুষ্ট। এ রায় উচ্চ আদালতেও বহাল থাকবে বলে আশা রাখি।
রোববার (৭ জুন) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে রামিসা হত্যাকাণ্ড নিয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
আসাদুজ্জামান বলেন, রামিসার এই ঘটনায় জাতি বেদনাহত ছিল। এর পরেও আমরা রামিসাকে ফিরিয়ে আনতে পারব না। তার বাবা-মার কাছে তাকে ফিরিয়ে দিতে পারব না। কিন্তু আমাদের যতটুকু করার আমরা সেটা করার চেষ্টা করেছি। ১৯ মে ঘটনা ঘটেছে সেই ঘটনা তদন্ত করে ২৪ মে এর মধ্য চার্জশিট দিতে সক্ষম হয়েছি।
তিনি আরও বলেন, ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি ছুটি ছিল। আমাদের নিম্ন আদালতগুলো ১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত ছুটির আওতায় ছিল। সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন এক মাসের মধ্যে এই বিচারকার্য শেষ করতে আমরা বদ্ধপরিকর।
নিম্ন আদালতের ছুটি বাতিলের জন্য একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। এরপর মাননীয় প্রধান বিচারপতি সম্মতি দিয়েছিলেন দেশের শিশু ট্রাইবুনাল এই ছুটির আওতামুক্ত থাকবে। এর ফলেই চার্জশিট দাখিলের পর সিএমএম কোর্ট থেকে এই চার্জশিট ট্রাইব্যুনালে যায়।
তিনি বলেন, ১ জুন চার্জ ফ্রেমের জন্য দিন ধার্য করা হয়। কার্যত মাত্র কয়েকটি কার্যদিবসের মধ্যেই আমরা রামিসার এই বেদনাদায়ক ঘটনার বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি। এটি দেশের বিচার ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, উপমহাদেশে নদীয়ায় একবার এমন একটি ঘটনার বিচার এক দিনে সম্পন্ন হয়েছিল। এই ঘোষিত শাস্তিতে আমরা আপাতত সন্তুষ্ট। উচ্চ আদালতে গেলেও এই রায় বহাল থাকবে বলে আমরা আশা করি।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সাত দিনের মধ্যে এই ফাইল হাইকোর্ট বিভাগে চলে যাবে। সেখানে যাওয়ার পর এসব মামলায় পেপারবুক প্রস্তুত করতে হয়, যা বাইরে করার সুযোগ নেই; সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানেই তা সম্পন্ন হবে। এরপর ধারাবাহিকভাবে মৃত্যুদণ্ডের মামলাগুলোর নিষ্পত্তি করেন সুপ্রিম কোর্ট।
তিনি বলেন, আমি অ্যাটর্নি জেনারেল থাকা অবস্থায় প্রধান বিচারপতির আদেশে দুটি মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে সক্ষম হয়েছিলাম। তার একটি ছিল মেজর সিনহা হত্যা মামলা। আরেকটি ছিল বুয়েটের আবরার ফাহাদ মামলা।
মন্ত্রী আরও বলেন, রামিসা মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি নিয়ে আমি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলেছি। এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে তিনি প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন। যত দ্রুত সম্ভব এটি নিষ্পত্তি করা হবে।
এদিকে আইন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, রায় ঘোষণার পর মামলাটির পূর্ণাঙ্গ নথি দ্রুত হাইকোর্টে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি উচ্চ আদালতে আপিল প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।