{{ news.section.title }}
বায়ুদূষণে শীর্ষে কিনশাসা, ঢাকার অবস্থান কত?
টানা কয়েক দিনের তীব্র তাপদাহের পর ঢাকায় বৃষ্টির দেখা মিললেও রাজধানীর বাতাসের মানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। রবিবার (৭ জুন) সকালে ঢাকার বায়ু এখনও ‘সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর’ অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ার।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির লাইভ সূচক অনুযায়ী, আজ সকাল সোয়া ৮টায় ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর ছিল ১২৯। এই মান অনুযায়ী বাতাসকে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে ধরা হয়। অর্থাৎ, সাধারণ মানুষের জন্য এটি তুলনামূলক সহনীয় হলেও শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শ্বাসকষ্ট বা হৃদরোগে আক্রান্তদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বৃষ্টির পর সাময়িকভাবে ধুলাবালি কিছুটা কমে এলেও নগরীর যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলা এবং শিল্পকারখানার দূষণ বাতাসের মান খারাপ রাখছে বলে পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। বিশেষ করে গরম আবহাওয়ার সঙ্গে আর্দ্রতার সংমিশ্রণ দূষণ কণাকে বাতাসে দীর্ঘ সময় ভেসে থাকতে সাহায্য করছে, ফলে দ্রুত উন্নতি দেখা যাচ্ছে না।
আজকের বৈশ্বিক বায়ুদূষণ তালিকায় ঢাকার অবস্থান পঞ্চম। তালিকার শীর্ষে রয়েছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা, যার একিউআই স্কোর ২১১-যা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা (১৬৫), তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে যথাক্রমে পাকিস্তানের লাহোর (১৫৫) এবং চিলির সান্তিয়াগো (১৫১)।
ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে চীনের উহান (১২২) এবং সপ্তমে সেনেগালের ডাকার (১১০)। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য শহরের মধ্যে ভারতের কলকাতায় একিউআই ছিল ৯৬, পাকিস্তানের করাচি ও ইরাকের বাগদাদে ৮৬, যা ‘মাঝারি’ পর্যায়ের দূষণ হিসেবে ধরা হয় এবং তারা যথাক্রমে অষ্টম, নবম ও দশম অবস্থানে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একিউআই স্কোর ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে থাকলে তা সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ সময় অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়া, মাস্ক ব্যবহার করা এবং দীর্ঘ সময় খোলা জায়গায় অবস্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষ করে শিশু ও প্রবীণদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি বলে তারা মনে করেন।
অন্যদিকে বৈশ্বিক তালিকায় আজ সবচেয়ে পরিষ্কার বাতাসের শহর হিসেবে উঠে এসেছে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক, যার একিউআই মাত্র ১৫। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থানীয় বৃষ্টিপাত এবং নিয়ন্ত্রিত বায়ুদূষণ ব্যবস্থার কারণে ব্যাংককে তুলনামূলকভাবে ভালো বায়ুমান বজায় রয়েছে।
ঢাকায় বৃষ্টির পরও দূষণের এই উচ্চমাত্রা নগরীর পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে রাজধানীর বায়ুমান দ্রুত উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা কম।