{{ news.section.title }}
বায়ুদূষণে শীর্ষে লাহোর, ঢাকার অবস্থান কত?
জলবায়ু পরিবর্তন, দ্রুত নগরায়ণ এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে বিশ্বজুড়ে বায়ুদূষণ ক্রমেই উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর বড় শহরগুলোতে যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্পকারখানার নির্গমন এবং নির্মাণকাজের ফলে বায়ুর মান প্রায়ই অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে নেমে যায়। তবে ঈদুল আজহার ছুটিকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকায় যানবাহনের চাপ ও নির্মাণকাজ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় সাময়িকভাবে স্বস্তি ফিরেছে নগরবাসীর মধ্যে।
এছাড়া সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে বাতাসে ভাসমান ধুলাবালির পরিমাণও কমেছে। ফলে বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এই মেগাসিটির বাতাস বর্তমানে তুলনামূলকভাবে সহনীয় অবস্থায় রয়েছে। পরিবেশবিদদের মতে, বৃষ্টিপাত এবং যানবাহনের সংখ্যা কমে যাওয়ার ফলে বায়ুর গুণগত মানে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) সকালে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। শহরটির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর ছিল ১৫৯, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ের মধ্যে পড়ে।

তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের রাজধানী কিনশাসা। শহরটির একিউআই স্কোর ছিল ১৫৬, যা একইভাবে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। দূষণের কারণে এসব শহরের বাসিন্দারা স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
অন্যদিকে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা ৭৭ একিউআই স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ২০তম অবস্থানে রয়েছে। এই স্কোর অনুযায়ী ঢাকার বাতাসের মান ‘মাঝারি’ পর্যায়ে রয়েছে। যদিও শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগে আক্রান্ত মানুষের মতো সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার বায়ুমানের এই উন্নতি মূলত সাময়িক। ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার পর যানবাহন চলাচল, নির্মাণকাজ এবং নগরজীবনের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হলে দূষণের মাত্রা আবারও বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করছেন তারা।

আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, একিউআই স্কোর ০ থেকে ৫০ হলে বায়ুর মান ‘ভালো’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোর ‘মাঝারি’, ১০১ থেকে ১৫০ ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ এবং ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর ‘অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়। এছাড়া ২০১ থেকে ৩০০ স্কোর হলে তা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি হলে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বা স্বাস্থ্যঝুঁকির জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে বিবেচনা করা হয়।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, নগর এলাকায় সবুজায়ন বৃদ্ধি, গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, নির্মাণকাজে ধুলা নিয়ন্ত্রণ এবং শিল্পকারখানার নির্গমন কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে বায়ুদূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। একইসঙ্গে নাগরিকদেরও পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।