{{ news.section.title }}
হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু
দেশে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক রূপ ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ১ হাজার ৬৩টি শিশু চিকিৎসা নিতে এসেছে। নতুন করে আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
রোববার (২১ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন্স অ্যান্ড কন্ট্রোল রুম প্রকাশিত হামবিষয়ক সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া হামে কোনো শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। এর ফলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৫৮৭ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯৩ শিশু। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গজনিত কারণে এ পর্যন্ত ৬৮০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক একটি চিত্র তুলে ধরছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬২ জন শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে আরও ১ হাজার ১ জন শিশু। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতেও রোগীর চাপ অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত একদিনে ৯৫৭ জন শিশুকে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে চিকিৎসা শেষে ৮৭৯ জন শিশু হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। ফলে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯২ হাজার ৭৯০ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া হাম রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ১১ জন। একই সময়ে মোট ৭৬ হাজার ৮৫৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসা শেষে তাদের মধ্যে ৭২ হাজার ৮৪৯ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সহজেই অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে টিকা না নেওয়া শিশুদের জন্য এ রোগ মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। হাম থেকে নিউমোনিয়া, তীব্র ডায়রিয়া, অপুষ্টি এবং মস্তিষ্কের জটিল সংক্রমণসহ বিভিন্ন গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসকরা বলছেন, শিশুর জ্বর, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, সর্দি-কাশি এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করা উচিত। সময়মতো চিকিৎসা ও পর্যাপ্ত পরিচর্যা অনেক ক্ষেত্রে জটিলতা এবং মৃত্যুঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিভাবকদের শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে আক্রান্ত শিশুদের আলাদা রাখা, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হাম প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচির শতভাগ বাস্তবায়ন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অভিভাবক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।