পাঠ্যবইয়ে থাকছে না ওসমান হাদির বীরত্বগাথা

পাঠ্যবইয়ে থাকছে না ওসমান হাদির বীরত্বগাথা
ছবির ক্যাপশান, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তকে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির বীরত্বগাঁথা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না। তবে ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর সময় তার জীবন ও অবদানের বিষয়টি পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

এনসিটিবির প্রাথমিক শিক্ষাক্রম উইংয়ের সদস্য প্রফেসর ড. মো. ইকবাল হায়দার জানান, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যবই সম্পাদনার কাজ ইতোমধ্যে শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। ফলে নতুন করে কোনো বিষয় সংযোজনের সুযোগ নেই।

 

তিনি বলেন, প্রাথমিকের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষে ওসমান হাদির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না। তবে ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের সময় বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।

 

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৮ সালের পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বইয়ের ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ অধ্যায়ে শহীদদের স্মরণে একটি বিশেষ অংশ রাখা হতে পারে। সেখানে শহীদ তিতুমীর, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, নূর হোসেন, আবু সাঈদ ও মুগ্ধের মতো একই ধরনের বিন্যাসে ওসমান হাদির জীবন ও অবদান তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

আরও পড়ুন: ১০ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর দাবি শুভেন্দুর

 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৮ সালের নতুন শিক্ষাক্রমে কোন বিষয় যুক্ত হবে এবং কোন বিষয় বাদ যাবে, সে বিষয়ে পরিকল্পনা কমিটি ও বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন ওসমান হাদি। ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টনে সন্ত্রাসীদের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

 

ওসমান হাদির মৃত্যুর পর বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে তাকে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি ওঠে। তার অবদান ও ভূমিকা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার বিষয়ে আলোচনা চলছিল।
 


সম্পর্কিত নিউজ