ময়মনসিংহে হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

ময়মনসিংহে হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু
ছবির ক্যাপশান, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল | ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে হামের লক্ষণ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর এ হাসপাতালে হামের লক্ষণ নিয়ে মারা যাওয়া শিশুর সংখ্যা বেড়ে ৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকার।

 

হাসপাতাল সূত্র জানায়, মারা যাওয়া চার শিশুর মধ্যে দুইজনের বয়স চার মাস এবং একজনের বয়স আট মাস। তাদের বাড়ি ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও ফুলপুর, নেত্রকোনার কমলাকান্দা এবং সুনামগঞ্জের মদনপুর এলাকায়।

 

এর মধ্যে হালুয়াঘাটের চার মাস বয়সী কন্যাশিশুটি গত ১৮ জুন হাসপাতালে ভর্তি হয়। শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। শিশুটির মৃত্যু সনদে হামের লক্ষণের পাশাপাশি নিউমোনিয়া ও হার্ট ফেইলিউরের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

 

ফুলপুরের চার মাস বয়সী শিশুটি গত ২ জুন ভর্তি হওয়ার পর শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মারা যায়। একই দিন বিকেল ৩টার দিকে মারা যায় নেত্রকোনার কমলাকান্দার চার মাস বয়সী আরেক শিশু, যে গত ১৬ জুন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল।

 

এ ছাড়া সুনামগঞ্জের মদনপুরের আট মাস বয়সী শিশুটি গত ৮ জুন হাসপাতালে ভর্তি হয়। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে নতুন আরও ১৬ শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৯৪ শিশু।

 

গত ১৭ মার্চ থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট দুই হাজার ৩৭৮ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে দুই হাজার ২২৬ শিশু এবং মৃত্যু হয়েছে ৫৮ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো শিশুকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। এ সময় কাউকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায়ও পাঠানো হয়নি।

 

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে হামের লক্ষণ নিয়ে রোগী ভর্তি শুরু হয়। মার্চের মাঝামাঝি থেকে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালের ৬৪ শয্যাবিশিষ্ট পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ডে তিনটি মেডিকেল টিম চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে।

 

এদিকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা এক শিশুর মা মনোয়ার খাতুন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গত সাত দিনে তার চোখের সামনে নয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, হাসপাতালে শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত আইসিইউ সুবিধা না থাকায় অনেক সংকটাপন্ন রোগীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। দ্রুত আইসিইউসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

 

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রয়েছে এবং আক্রান্ত শিশুদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।


সম্পর্কিত নিউজ