খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরান যাবেন বাংলাদেশের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন

খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরান যাবেন বাংলাদেশের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন
ছবির ক্যাপশান, খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরান যাবেন বাংলাদেশের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তেহরান যাচ্ছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের আমন্ত্রণে তিনি এই সফরে অংশ নেবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পাওয়ার পর বাংলাদেশের স্পিকার খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সফরকালে তিনি ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে পারেন বলে জানা গেছে।

 

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু দেশটির রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। তার মৃত্যুতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা, কূটনীতিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা শোক প্রকাশ করেছেন। খামেনির দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অবসানে ইরানে কয়েক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

 

ইরানি সূত্র অনুযায়ী, খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান কয়েক ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৪ জুলাই রাজধানী তেহরানে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৭ জুলাই রাজধানীর উপকণ্ঠের ধর্মীয় নগরী কোমে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সবশেষ ৯ জুলাই দক্ষিণপূর্বাঞ্চলের মাশহাদ শহরে আরেকটি জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে।

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের স্পিকারের সফরটি মূলত শোক ও সংহতি প্রকাশের অংশ। এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার সময় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান বলে জানানো হয়েছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

 

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বে ইরানের পররাষ্ট্রনীতি, আঞ্চলিক কৌশল এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে তিনি ছিলেন অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব।

 

বাংলাদেশের স্পিকারের এই সফরকে কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা ও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

 

তবে খামেনির মৃত্যু এবং তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও নেতারা তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

 


সম্পর্কিত নিউজ