বিশেষায়িত বাহিনীগুলোকে আরও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

বিশেষায়িত বাহিনীগুলোকে আরও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান সরকার প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) ও স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) মতো বিশেষায়িত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ের বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এসব বাহিনীকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণে আরও দক্ষ করে তোলা হবে।

রোববার (৫ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী পিজিআরের সাবেক ও বর্তমান সব কর্মকর্তা এবং সদস্যকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, ‘নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাই গার্ডসের লক্ষ্য’-এই মূলমন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে পিজিআরের সদস্যরা পেশাগত দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সাহস ও দেশপ্রেমের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পিজিআরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এলেই তার জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক স্মৃতির কথা মনে পড়ে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার সময় দায়িত্ব পালনরত পিজিআরের কয়েকজন সদস্যও শহীদ হয়েছিলেন। তিনি তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

 

তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে শহীদ হওয়া পিজিআর সদস্যরা কর্তব্যপরায়ণতা, আনুগত্য ও আত্মত্যাগের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

 

প্রধানমন্ত্রী জানান, ১৯৭৫ সালে ‘রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিট’ নামে যাত্রা শুরু করা বাহিনীকে একই বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ‘প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট’ নাম দেন। এই নামকরণ বাহিনীর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

তারেক রহমান বলেন, তার বাবা-মা বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকায় ছোটবেলা থেকেই পিজিআরের কার্যক্রম কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার দায়িত্ব পালনও পিজিআরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। বিশ্বস্ততা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের কারণেই বাহিনীটি একটি সুশৃঙ্খল প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

 

তিনি জানান, সুশৃঙ্খলতার স্বীকৃতি হিসেবে চলতি বছর পিজিআর ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে। এ অর্জনের জন্য বাহিনীর সদস্যদের অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।

 

সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে বিশেষভাবে নির্বাচিত ও প্রশিক্ষিত সদস্যরাই পিজিআরে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও আনুগত্য বজায় রেখে বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন-এটাই প্রত্যাশিত।

 

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কারণে বাহিনীটি দেশের ইতিহাসের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে। একই সঙ্গে বর্তমান সময়ে সাইবার যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ড্রোন যুদ্ধ ও তথ্যযুদ্ধের মতো নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এসব মোকাবিলায় শুধু পিজিআর নয়, সব বাহিনীকে আধুনিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকতে হবে।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে পিজিআরের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, কৌশল ও দক্ষতায় পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই। তিনি উল্লেখ করেন, রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন স্থানে জনসভা এবং রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সময় সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।

 

তিনি বাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিরাপত্তা কৌশল এমনভাবে প্রণয়ন করতে হবে যাতে জনগণ নিজেদের সরকারপ্রধান থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না করেন। একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে তিনি জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসার ওপর আস্থা রাখতে চান।

 

তারেক রহমান বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি পিজিআর ও এসএসএফের মতো বিশেষায়িত বাহিনীগুলোকে আরও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা সরকার গ্রহণ করেছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনী যদি দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখে, তবে দেশের সার্বভৌমত্ব কখনো হুমকির মুখে পড়বে না।

 

বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রতিটি সদস্যকে সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিয়মানুবর্তিতা এবং ‘চেইন অব কমান্ড’ কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। পরে তিনি পিজিআরের ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাহিনীর সব সদস্যের সুস্বাস্থ্য, কল্যাণ ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন।


সম্পর্কিত নিউজ