কাপ্তাই লেকে পানি বাড়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে গতি, পাঁচ ইউনিটে উৎপাদন ছাড়াল ২০০ মেগাওয়াট

কাপ্তাই লেকে পানি বাড়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে গতি, পাঁচ ইউনিটে উৎপাদন ছাড়াল ২০০ মেগাওয়াট
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

টানা কয়েক দিনের বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির কাপ্তাই লেকে পানির স্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রটির পাঁচটি ইউনিট থেকে ২০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে, যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ উৎপাদন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (১৩ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান।

 

তিনি জানান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই লেকে পানির প্রবাহ বেড়েছে। এর ফলে সোমবার সকাল থেকেই লেকের পানির উচ্চতা ১০০ ফুট মিন সি লেভেল (এমএসএল) অতিক্রম করেছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত কাপ্তাই লেকে পানির উচ্চতা ছিল ১০০ দশমিক ৬০ ফুট এমএসএল। আগের দিন রোববার রাত পর্যন্ত এই উচ্চতা ছিল ৯৯ দশমিক ১৫ ফুট। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে পানির স্তর প্রায় দেড় ফুট বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনেও বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

 

মাহমুদ হাসান বলেন, সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট থেকে মোট ২০৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। চলতি বছরে এটিই কেন্দ্রটির সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন।

 

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সূত্র জানায়, বর্তমানে ১, ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিট থেকে প্রতিটিতে ৪০ মেগাওয়াট করে মোট ১৬০ মেগাওয়াট এবং ২ নম্বর ইউনিট থেকে ৪৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। সব মিলিয়ে পাঁচটি ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে ২০৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

 

কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৪০ মেগাওয়াট। তবে প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি না থাকায় গত প্রায় তিন মাস ধরে পাঁচটি ইউনিট সচল থাকলেও পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হয়নি। এখন লেকে পানি বাড়তে থাকায় উৎপাদন ধীরে ধীরে সর্বোচ্চ সক্ষমতার দিকে এগোচ্ছে।

 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্ষণ অব্যাহত থাকলে এবং কাপ্তাই লেকে পানির স্তর আরও বাড়লে কেন্দ্রটির উৎপাদন ২৩০ থেকে ২৪২ মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা এর স্বাভাবিক সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতার কাছাকাছি।

 

তবে পানি ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত রুল কার্ভও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। প্রকৌশলীরা জানান, এই সময়ে রুল কার্ভ অনুযায়ী লেকে পানির স্তর থাকার কথা ৯০ দশমিক ৩১ ফুট এমএসএল। যদিও সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। পানির স্তর নিরাপদ সীমার মধ্যে রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জলাধার ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করা হচ্ছে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎকেন্দ্র হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে এর উৎপাদন বৃদ্ধি জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য ইতিবাচক। এতে গ্যাস ও তরল জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর কিছুটা চাপ কমে এবং উৎপাদন ব্যয়ও হ্রাস পায়।

 

উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি কাপ্তাই লেকের পানির ওপর নির্ভরশীল। বর্ষা মৌসুমে লেকে পর্যাপ্ত পানি জমলে কেন্দ্রটির পাঁচটি ইউনিট একসঙ্গে চালিয়ে সর্বোচ্চ ২৩০ থেকে ২৪২ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয়।


সম্পর্কিত নিউজ