দেশে আজ কত দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ?

দেশে আজ কত দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ?
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে টানা চার দফা দরপতনের পর আবারও দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বাজুস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়, যা সেদিন থেকেই কার্যকর হয়েছে।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধির কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব এবং দেশীয় বাজারে কাঁচা স্বর্ণের সরবরাহ ও দামের ওঠানামাও এই সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

 

এর আগে একই দিনে (৩০ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে ভালো মানের স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছিল। ওই দফায় ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমানো হয়। তারও আগে ধারাবাহিকভাবে চার দফায় মোট ৯ হাজার ৮৫৬ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছিল ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম। ফলে কয়েক দিনের ব্যবধানে স্বর্ণবাজারে বড় ধরনের ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে, যা ক্রেতা ও ব্যবসায়ী উভয়ের মধ্যেই কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

 

নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ৩১ হাজার ৯৩৯ টাকায়। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকা।

 

অন্যদিকে, স্বর্ণের দাম বাড়লেও অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার বাজার। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৪৮২ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৩৮৩ টাকায়।

 

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা, ডলারের বিনিময় হার এবং আমদানি নির্ভরতার কারণে দেশের স্বর্ণবাজারে এমন ঘনঘন মূল্য সমন্বয় হচ্ছে। বিশেষ করে বিয়ের মৌসুম ও উৎসবকেন্দ্রিক চাহিদা বাড়লে বাজারে স্বর্ণের দামের ওপর চাপ তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে দামের পরিবর্তনে প্রভাব ফেলে।

 

জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, দাম বাড়ার ফলে ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা সতর্কতা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণ বিনিয়োগের একটি নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা পুরোপুরি কমবে না। অন্যদিকে, সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, অল্প সময়ের মধ্যে দামের এমন ওঠানামা তাদের জন্য পরিকল্পনা করা কঠিন করে তুলছে।

 

সব মিলিয়ে, টানা দরপতনের পর হঠাৎ দাম বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত দেশের স্বর্ণবাজারে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামনে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী আবারও দামে পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


সম্পর্কিত নিউজ