{{ news.section.title }}
জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ৫০ হাজার টন অকটেন আনছে বিপিসি
দেশের জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ও সরবরাহ সংকট কাটিয়ে উঠতে বড় পরিসরের আমদানি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ ঠিক রাখতে এপ্রিল মাসে প্রতিষ্ঠানটি ৫৩ হাজার ৩৬৪ টন অকটেন আমদানি করেছে।
একই সঙ্গে আগামী দুই মাসে আরও ৫০ হাজার টন অকটেন আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শুধু অকটেন নয়, ডিজেল, জেট ফুয়েল, ফার্নেস অয়েল এবং অপরিশোধিত জ্বালানি তেল-সব ক্ষেত্রেই নতুন আমদানি সূচি চূড়ান্ত করেছে বিপিসি। সংশ্লিষ্টদের আশা, এই ধারাবাহিক আমদানি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী সময়ে জ্বালানি তেলের বড় ধরনের সংকট এড়ানো সম্ভব হবে।
যুদ্ধের প্রভাব, বাজারে তেলসংকট ও ভোগান্তির শুরু
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর পর মার্চের শুরু থেকেই দেশের জ্বালানি পরিস্থিতিতে চাপ তৈরি হতে থাকে। বিশেষ করে অকটেনের সংকট দৃশ্যমান হয়ে ওঠে দ্রুত। দেশের বহু রিফুয়েলিং স্টেশন তেলশূন্য হয়ে পড়ে। যেসব স্টেশনে তেল ছিল, সেখানেও সৃষ্টি হয় দীর্ঘ লাইন। অনেক জায়গায় গ্রাহকদের ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পরিবহন খাত, ব্যক্তিগত গাড়িচালক, মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী এবং ব্যবসায়িক খাত-সব জায়গাতেই ভোগান্তি তীব্র আকার ধারণ করে।
সংকট মোকাবিলায় সরকার শুরুতে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করে। পরে সেই ব্যবস্থা শিথিল করে সরবরাহ ২৫ শতাংশ বাড়ানো হয়। তেল বিতরণে শৃঙ্খলা আনতে ফুয়েল পাস চালুর মতো পদক্ষেপও নেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও স্টেশনভিত্তিক কষ্ট পুরোপুরি কমেনি। যুদ্ধ পরিস্থিতিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বহু গ্রাহক প্যানিক বায়িং বা আতঙ্কজনিত অতিরিক্ত কেনাকাটায় যুক্ত হন। এতে মজুতের ওপর চাপ আরও বেড়ে যায়। সর্বশেষ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর লাইনের ভোগান্তি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও, জোগান সচল রাখতে বিপিসি এখনো আমদানিনির্ভর বাড়তি প্রস্তুতি ধরে রেখেছে।
এপ্রিলজুড়ে জ্বালানি আমদানি ছিল টানা চাপে
এপ্রিলের শুরুতে বিপিসির মজুতও চাপের মুখে পড়ে। সে সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে মাসজুড়ে একের পর এক কার্গো আনলোড করে জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখার চেষ্টা করা হয়। তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে আমদানি করা ১১টি কার্গোর তেল যথাসময়ে খালাস করা হয়েছে। এর ফলে তাৎক্ষণিক ঘাটতি মোকাবিলায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে।
৩ এপ্রিল ইউনিপ্যাকের এমটি শ্যান গ্যাং ফা হিয়েন জাহাজ থেকে ৩৪ হাজার ৪৩ টন ডিজেল খালাস করা হয়। একই দিন ইউনিপ্যাকের আরেকটি জাহাজ এমটি ইউয়ান ঝিং হে থেকে ২৭ হাজার ৩৭৪ মেট্রিক টন ডিজেল নামানো হয়। এর পর ৮ এপ্রিল একদিকে নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে ৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আসে, অন্যদিকে ভিটলের এমটি সেন্ট্রাল স্টার ২৬ হাজার ১ টন অকটেন এবং বিএসপি এমটি ইস্টার্ন কুইন ২৫ হাজার ৮৬৪ টন ফার্নেস অয়েল খালাস করে।
১৩ এপ্রিল এমটি গ্রেট প্রিন্সেস কার্গো থেকে ১১ হাজার ৯০০ টন জেট ফুয়েল আসে। ১৪ এপ্রিল এমটি লুসিয়া সলিস ৩৪ হাজার ৯৯১ টন ডিজেল এবং এমটি টর্ম দামিনি ৩২ হাজার ৯৩৫ টন ডিজেল খালাস করে। ১৬ এপ্রিল আবার নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে আরও ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আসে। ১৭ এপ্রিল এমটি নেইভ সিয়েলো থেকে ২৭ হাজার ৩৬৩ মেট্রিক টন অকটেন খালাস করা হয়। একই দিনে এমটি অকট্রি কার্গো থেকে ৩৫ হাজার ৩৪৫ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল খালাসের তথ্যও রয়েছে। ১৮ এপ্রিল এমটি কেইপ বনি থেকে ৩৩ হাজার ৩৯৭ মেট্রিক টন ডিজেল এবং ১৯ এপ্রিল এমটি লিয়ান সং হু থেকে ৪১ হাজার ৯০৭ মেট্রিক টন ডিজেল খালাস করা হয়।
সব কার্গো সময়মতো মেলেনি, কিছু চালান আটকে বা পেছিয়েছে
এপ্রিলের পরিকল্পনা থাকলেও সব চালান নির্বিঘ্নে বাস্তবায়িত হয়নি। কিছু কার্গো খালাসের অপেক্ষায় ছিল, কিছু দেশে প্রবেশের পথে ছিল, আবার কিছু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে স্থগিত বা ডিফার করা হয়েছে। খালাসের অপেক্ষায় ছিল ৪১ হাজার ৯০৭ মেট্রিক টন ডিজেলবাহী এমটি লিয়ান সং হু এবং ২৭ হাজার ৩৬৩ মেট্রিক টন অকটেনবাহী এমটি নেইভ সিয়েলো। এছাড়া দেশে আসার পথে ছিল ৬০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলবাহী দুটি কার্গো জাহাজ-ভিটল এবং এমটি হাফনিয়া চিতাহ কার্গো।
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অন্তত দুটি কার্গো ফোর্স ম্যাজিউরের আওতায় পড়ে। এর মধ্যে ইউনিপ্যাকের একটি চালানে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আনার কথা ছিল। অন্যটি থাইল্যান্ডভিত্তিক পিটিএলসিএল কার্গো, যেখান থেকে ৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এবং ২৫ হাজার মেট্রিক টন জেট ফুয়েল আনার পরিকল্পনা ছিল। পরে ২৭ এপ্রিল ওকিটিউএর ৩০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলবাহী আরেকটি কার্গো মে মাসে পিছিয়ে দেওয়া হয়। অর্থাৎ, শুধু জোগান পরিকল্পনা করাই যথেষ্ট ছিল না; যুদ্ধের বাস্তবতা আমদানি সময়সূচিকেও ব্যাহত করেছে।
অপরিশোধিত তেল না থাকায় ইস্টার্ন রিফাইনারি বন্ধ
সংকটের সবচেয়ে বড় আঘাত পড়ে দেশের একমাত্র অপরিশোধিত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল)। অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় প্রায় ১৮ দিন ধরে বন্ধ ছিল প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম। বাংলাদেশ জিটুজি পদ্ধতিতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ক্রুড অয়েল আমদানি করে। এসব অপরিশোধিত তেল শোধনের পরই পাওয়া যায় ডিজেল, জেট ফুয়েল, ফার্নেস অয়েল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্য।
বাংলাদেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ২২ শতাংশ সরবরাহ আসে ইআরএল থেকে। এই একটি শোধনাগার বন্ধ হয়ে গেলে বাজারে চাপ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইআরএল থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার ৩৫০ মেট্রিক টন লাইট ডিস্টিলেট, ৫ লাখ ৮৮ হাজার ২৫১ মেট্রিক টন মিড ডিস্টিলেট এবং ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮৫ মেট্রিক টন বটম ডিস্টিলেট উৎপাদিত হয়েছে। লাইট ডিস্টিলেটে এলপিজি, ন্যাফথা, শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত এসবিপিএস, পেট্রোল ও অকটেন পাওয়া যায়। মিড ডিস্টিলেটে ডিজেল, কেরোসিন, জুট ব্যাচিং অয়েল, এমটিটি, জেট ফুয়েল ও লাইট ডিজেল অয়েল পাওয়া যায়। আর বটম ডিস্টিলেটে পাওয়া যায় রিডিউসড ক্রুড অয়েল (আরসিও) এবং ফার্নেস অয়েল।
হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজে আরও জটিলতা
দেশে সর্বশেষ ক্রুড অয়েলের চালান আসে ১৮ ফেব্রুয়ারি, যখন দুবাই থেকে এক লাখ মেট্রিক টন মারবান ক্রুড অয়েল আসে। এরপর যুদ্ধ শুরু হলে নতুন করে অপরিশোধিত তেল আনা কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) এসব তেল পরিবহনের জন্য বর্তমানে আমেরিকান প্রতিষ্ঠান নর্ভিক এনার্জি থেকে চার্টারে জাহাজ ভাড়া নেয়। যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর বিএসসির চার্টারার প্রতিষ্ঠানটি আমেরিকান হওয়ায় ঝুঁকি বেড়ে যায়।
এমন প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের রাস তানুরা থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে নর্ডিক পোলাক্স নামে একটি ট্যাংকার ৫ এপ্রিল থেকে হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়ে। প্রায় দেড় মাস কেটে গেলেও সেটি কখন বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা করবে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এরই প্রভাবে ১২ এপ্রিল থেকে ইআরএলের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
বিকল্প পথে নতুন ক্রুড চালান, সামনে আরও ২ লাখ টনের পরিকল্পনা
অপরিশোধিত তেল সরবরাহে নতুন সমাধান হিসেবে বিপিসি বিকল্প রুটে চালান আনার উদ্যোগ নিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেলবাহী ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ ২১ এপ্রিল বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। এই চালান পৌঁছালে ইআরএলের ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
শুধু তা-ই নয়, মে ও জুন মাসে আরও দুই লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে মে মাসে দুবাই থেকে ১ লাখ টন মারবান ক্রুড অয়েল এবং জুনে সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন এএলসি ক্রুড অয়েল আমদানির লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। অর্থাৎ, পরিশোধন খাত সচল রাখার জন্য বিপিসি এখন ক্রুড আমদানিতেও নতুন চাপ নিয়েছে।
রিফাইন্ড তেলেও মে-জুনে বড় পরিকল্পনা
অপরিশোধিত তেলের পাশাপাশি পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিও জোরদার করা হচ্ছে। বিপিসি সাধারণত ৮টি দেশ ও একাধিক আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান থেকে refined fuel বা পরিশোধিত তেল সংগ্রহ করে। এর মধ্যে মালয়েশিয়ার পেটকো ট্রেডিং, চীনের পেট্রোচায়না, সিঙ্গাপুরের ইউনিপ্যাক, দুবাইয়ের এমিরেটস ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি, ইন্দোনেশিয়ার পিটি বুমি সিয়াক পুসাকো যাপিন, থাইল্যান্ডের পিটিটি ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং, ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি ও ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, সিঙ্গাপুরের ভিটল এশিয়া ও সিনোচেন ইন্টারন্যাশনাল এবং ওমানের ওকিউ ট্রেডিং লিমিটেড রয়েছে।
এপ্রিল মাসে বিপিসি ৪ লাখ ৭২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, ৬০ হাজার মেট্রিক টন জেট ফুয়েল, ৫০ হাজার মেট্রিক টন অকটেন এবং ৫০ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল আমদানি করেছে। ২৮ এপ্রিলের পর বিপিসির মজুতে ছিল ১ লাখ ৮১ হাজার টন ডিজেল, ৪২ হাজার ৯৩৩ মেট্রিক টন অকটেন এবং ১৭ হাজার ৬৪০ মেট্রিক টন পেট্রোল। এই মজুত দিয়ে ডিজেল ১৫ দিন, অকটেন ৩৫ দিন এবং পেট্রোল ১২ দিন চালানো সম্ভব বলে হিসাব করা হয়েছে।
মে মাসে বিপিসি ৩ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, ৪০ হাজার মেট্রিক টন জেট ফুয়েল, ২৫ হাজার মেট্রিক টন অকটেন এবং ৭৫ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল আমদানির পরিকল্পনা নিয়েছে। জুনে তা হবে ২ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, ৬০ হাজার মেট্রিক টন জেট ফুয়েল, ২৫ হাজার মেট্রিক টন অকটেন এবং ৭৫ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল। এই দুই মাসের পরিকল্পনা থেকে বোঝা যায়, বিপিসি সরবরাহে বিঘ্ন এড়াতে আগেভাগেই বাজারে জোগান বাড়ানোর পথে হাঁটছে।
দেশীয় উৎস থেকেও বাড়ানো হচ্ছে সংগ্রহ
শুধু আমদানি নয়, দেশীয় উৎস থেকেও জ্বালানি সংগ্রহ বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এপ্রিল মাসে দেশীয় খাত থেকে ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, ২৪ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন অকটেন, ৩৫ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন পেট্রোল এবং ৩ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল পাওয়া গেছে। মে মাসে এই লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৫৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, ২৪ হাজার মেট্রিক টন অকটেন, ৩০ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোল এবং ৩০ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল ধরা হয়েছে। জুনে আশা করা হচ্ছে ৬০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, ২৪ হাজার মেট্রিক টন অকটেন, ৩০ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোল এবং ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল পাওয়া যাবে।
বিপিসির ভরসা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায়
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিপিসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশের জ্বালানি তেলের চাহিদা মেটাতে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর আওতায় আমদানি ও সরবরাহ কার্যক্রম চালু থাকবে এবং সামনে বড় ধরনের সংকট হবে না বলেই আশা করা হচ্ছে।