দেশের বাজারে আবারও বাড়ল সোনার দাম

দেশের বাজারে আবারও বাড়ল সোনার দাম
ছবির ক্যাপশান, জাগরণ ছবি

দেশের বাজারে আরেক দফা বেড়েছে সোনার দাম। এবার ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন দাম বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্যতালিকা জানায় বাজুস। সংগঠনটি বলছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনা বা পিওর গোল্ডের দাম বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা।

 

এর আগে, গতকাল বুধবার (৬ মে) দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়িয়েছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তখন ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ছিল ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকা।

 

দুই দিনের ব্যবধানে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম বেড়েছে মোট ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা। কারণ ৫ মে সকালে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা। এরপর ৬ মে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকায় এবং ৭ মে নতুন করে বেড়ে হলো ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। অর্থাৎ একদিন কমার পর টানা দুই দফা বৃদ্ধিতে দাম আবার আগের উচ্চ পর্যায়ের দিকে উঠতে শুরু করেছে।

 

সোনার দাম বৃদ্ধির সঙ্গে দেশের বাজারে গয়না কেনার খরচও বাড়বে। কারণ বাজুস নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ হয়। গয়নার ডিজাইন, কারিগরি মান ও দোকানভেদে মজুরির পরিমাণ আরও ভিন্ন হতে পারে। ফলে ঘোষিত ভরির দামের চেয়ে ক্রেতাকে বাস্তবে বেশি টাকা গুনতে হয়।

 

চলতি বছর দেশের বাজারে সোনার দাম ঘন ঘন ওঠানামা করছে। সর্বশেষ সমন্বয়সহ ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ৬৩ বার সোনার দাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ২৮ দফা কমানো হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বেড়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।

 

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ার পেছনে সরাসরি কারণ হিসেবে স্থানীয় তেজাবি সোনার মূল্যবৃদ্ধির কথা জানিয়েছে বাজুস। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের ওঠানামা, ডলারের বিনিময় হার, আমদানি ব্যয়, স্থানীয় সরবরাহ ও চাহিদার চাপও দেশের বাজারে মূল্য নির্ধারণে প্রভাব ফেলে। ফলে বিশ্ববাজারে দাম, স্থানীয় বাজারের পিওর গোল্ডের সরবরাহ এবং মুদ্রাবাজারের পরিবর্তন-সব মিলিয়ে সোনার দাম দ্রুত সমন্বয় করতে হচ্ছে।

 

জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদ ও বিয়ের মৌসুম সামনে থাকলে সোনার চাহিদা সাধারণত বাড়ে। এমন সময়ে দাম বাড়লে ক্রেতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। অনেক ক্রেতা বাজেট অনুযায়ী গয়নার পরিমাণ কমিয়ে দেন, আবার কেউ কেউ অপেক্ষা করেন দাম কমার আশায়। তবে সোনাকে দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ হিসেবেও বিবেচনা করেন অনেকে। তাই দাম বাড়লেও বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ের চিন্তা থেকে একটি অংশের ক্রয় আগ্রহ বজায় থাকে।

 

সব মিলিয়ে, দেশের বাজারে সোনার দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় ক্রেতা ও ব্যবসায়ী-উভয় পক্ষই বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। বিশেষ করে গত দুই দিনের ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি ইঙ্গিত দিচ্ছে, স্থানীয় তেজাবি সোনার বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। আগামী দিনে আন্তর্জাতিক বাজার, ডলারের দর এবং স্থানীয় সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে সোনার দাম আরও সমন্বয় হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


সম্পর্কিত নিউজ