{{ news.section.title }}
ব্রাজিলের দুঃসংবাদ, গ্রুপ পর্বে নেইমার নেই
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ব্রাজিল শিবিরে বড় দুশ্চিন্তার নাম ছিল নেইমার। মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে মাঠে নামতে না পারা এই তারকা ফরোয়ার্ডকে নিয়ে শঙ্কা আরও বেড়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের পরবর্তী দুই ম্যাচেও খেলা হচ্ছে না ৩৪ বছর বয়সী এই ফুটবলারের। ফলে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের আগ পর্যন্ত তাকে মাঠে দেখা যাবে কি না, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে মরক্কোর বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করে ব্রাজিল। সেই ম্যাচে নেইমারের অনুপস্থিতি আক্রমণভাগে স্পষ্টভাবেই অনুভূত হয়েছে। দলের প্রধান সৃজনশীল খেলোয়াড়কে ছাড়াই খেলতে হয়েছে কোচ কার্লো আনচেলত্তির দলকে।
গত ১৭ মে ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সান্তোসের হয়ে একটি লিগ ম্যাচে খেলতে গিয়ে পায়ের পেশিতে চোট পান নেইমার। এরপর প্রায় ১০ দিন পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর ব্রাজিল দলের ক্যাম্পে যোগ দিলেও এখনও পুরোপুরি অনুশীলনে ফিরতে পারেননি। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকায় তাকে বিশেষ ফিটনেস প্রোগ্রামের আওতায় রাখা হয়েছে।
ইএসপিএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০ জুন হাইতি এবং ২৫ জুন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের গ্রুপ পর্বের দুই ম্যাচেও মাঠে নামতে পারবেন না নেইমার। যুক্তরাষ্ট্রে দলের সঙ্গেই অবস্থান করলেও সম্প্রতি তার নতুন করে মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে সেই পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ ফলাফল এখনও প্রকাশ করেনি ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)।
সংবাদ সংস্থা এপি জানিয়েছে, সোমবার অনুশীলনে ফেরার কথা থাকলেও অনুশীলন মাঠে না গিয়ে হাসপাতালে পরীক্ষা করাতে যান নেইমার। এতে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থাকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ব্রাজিলের কয়েকটি শীর্ষ সংবাদমাধ্যমের দাবি, দলের চিকিৎসকরা নকআউট পর্বের আগে নেইমারকে শতভাগ ফিট করে তুলতে চান। তাই কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নয় টিম ম্যানেজমেন্ট। ফলে গ্রুপ পর্বের শেষ দুই ম্যাচে তাকে বিশ্রামে রাখা হতে পারে।
নেইমারের ক্যারিয়ারে চোট নতুন কিছু নয়। ২০১৪ বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে পিঠে গুরুতর আঘাত পেয়ে টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে গিয়েছিলেন তিনি। সেই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ব্রাজিলের ৭-১ গোলের ঐতিহাসিক হারেও খেলতে পারেননি।
এরপর ২০১৮ বিশ্বকাপের আগে পায়ের মেটাটারসাল হাড়ে চোট পান। অস্ত্রোপচারের পর বিশ্বকাপে ফিরলেও পুরোপুরি ছন্দে ছিলেন না। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে গোড়ালির লিগামেন্টে চোট পেয়ে গ্রুপ পর্বের দুটি ম্যাচ মিস করেন। যদিও পরে ফিরে এসে গোল করেছিলেন, তবুও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায় নেয় ব্রাজিল।
২০২৩ সালের অক্টোবরে উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে হাঁটুর অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট (ACL) এবং মেনিসকাসে গুরুতর চোট পান নেইমার। প্রায় এক বছর মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল তাকে। সেই চোট কাটিয়ে ফেরার পর সান্তোসে ফিরে নিয়মিত খেলার চেষ্টা করছিলেন তিনি। কিন্তু বিশ্বকাপের ঠিক আগে নতুন করে পেশির চোটে পড়ায় আবারও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
ব্রাজিলের হয়ে এখন পর্যন্ত ১৩২ ম্যাচে ৭৯ গোল করে কিংবদন্তি পেলের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন নেইমার। জাতীয় দলের আক্রমণভাগে এখনও তার গুরুত্ব অপরিসীম। তাই বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাকে নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চাইছেন না কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
মরক্কোর বিপক্ষে ড্রয়ের পর হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে নকআউট নিশ্চিত করার লক্ষ্য ব্রাজিলের। আর সেই নকআউট পর্বে নেইমারকে পুরোপুরি ফিট অবস্থায় পাওয়ার আশাতেই এখন দিন গুনছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।