‘আপনাদের নাক গলানোর প্রয়োজন নেই’ - কেন বললেন রামিন রেজাইয়ান

‘আপনাদের নাক গলানোর প্রয়োজন নেই’ - কেন বললেন রামিন রেজাইয়ান
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ গ্রুপ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত লড়াই করে ২-২ গোলে ড্র করেছে ইরান। ম্যাচজুড়ে পিছিয়ে পড়েও হাল না ছাড়া ইরান শেষ পর্যন্ত এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে। দলের হয়ে গোল করার পাশাপাশি আরেকটি গোলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে ম্যাচের অন্যতম নায়ক বনে যান অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার রামিন রেজাইয়ান। তবে ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল শুধু মাঠের পারফরম্যান্স নয়, জাতীয় সংগীত ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কও।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে গ্যালারিতে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ইরানের বাইরে সবচেয়ে বড় ইরানি সম্প্রদায়ের বসবাস এই শহরেই। সে কারণেই অনেকেই লস অ্যাঞ্জেলেসকে ‘তেহরানজেলেস’ নামে অভিহিত করেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর বিপুলসংখ্যক ইরানি এই অঞ্চলে বসতি গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে তাদের পরিবার ও নতুন প্রজন্মও সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে।

 

নিজেদের অন্যতম বৃহৎ প্রবাসী জনগোষ্ঠীর সামনে খেলতে নেমে ইরান যেন ঘরের মাঠের আবহই পেয়েছিল। স্টেডিয়ামে আনুমানিক ৫০ হাজারেরও বেশি ইরানি সমর্থকের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পুরো ম্যাচজুড়ে লাল-সাদা-সবুজ পতাকা, ব্যানার, স্লোগান এবং সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে মুখর ছিল গ্যালারি। বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা সমর্থক উপস্থিতির একটি হিসেবেও ম্যাচটি ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে।

 

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে নিউজিল্যান্ড। দ্রুতগতির আক্রমণে তারা দুইবার এগিয়ে যায়। তবে প্রতিবারই জবাব দেয় ইরান। মাঝমাঠে বল দখল, পাল্টা আক্রমণ এবং ডান প্রান্ত দিয়ে রামিন রেজাইয়ানের নেতৃত্বে তৈরি হওয়া সুযোগগুলো ইরানকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে। একটি গোলে সরাসরি স্কোর করার পাশাপাশি আরেকটি গোলে সহায়তা করে দলের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে পরিণত হন তিনি।

 

বিশ্বকাপে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার লক্ষ্যে দুই দলের জন্যই ম্যাচটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ড্রয়ের ফলে গ্রুপের লড়াই আরও জমে উঠেছে। পরবর্তী ম্যাচগুলো এখন ইরান ও নিউজিল্যান্ড-উভয় দলের জন্যই অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

 

তবে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি ম্যাচ শুরুর আগে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় গ্যালারির একটি অংশের আচরণ নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়। জাতীয় সংগীত বাজানোর সময় কিছু দর্শক দুয়ো দেন এবং সংগীতের সঙ্গে কণ্ঠ মেলাননি। বিষয়টি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের আলোচনায় উঠে আসে।

 

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রামিন রেজাইয়ান স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়, আপনাদের নাক গলাতে হবে না।’

 

তার এই বক্তব্য মুহূর্তেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। তবে কিছুক্ষণ পর নিজের অবস্থান আরও ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘আমি তোমাকে সম্মান করি। এটা আমাদের নিজেদের ভেতরের বিষয়। আমরা এটা নিজেরাই সামলে নেব, চিন্তা করবেন না।’

 

সাংবাদিকরা বিষয়টি নিয়ে আরও জানতে চাইলে রামিন বিতর্কটি দীর্ঘায়িত করতে চাননি। বরং ফুটবলে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে ফুটবলের প্রশ্নের উত্তর দিতে এসেছি। আমার দেশের মানুষ অনেক ভালো। সারা বিশ্ব এখন আমার মানুষদের চেনে।’

 

ইরানের জাতীয় দলকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন ইস্যু অতীতেও আন্তর্জাতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বড় টুর্নামেন্টগুলোতে জাতীয় সংগীত, পতাকা এবং সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে নানা বিতর্ক দেখা গেছে। তবে খেলোয়াড়রা বরাবরই মাঠের পারফরম্যান্সকে প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

 

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচেও সেটির ব্যতিক্রম হয়নি। বিতর্কের মধ্যেও ইরানের খেলোয়াড়রা মাঠে নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। বিশেষ করে রামিন রেজাইয়ান অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব এবং পারফরম্যান্স দিয়ে দলের অন্যতম নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে নিজেকে আবারও প্রমাণ করেছেন।

 

বিশ্বকাপের পরবর্তী ম্যাচগুলোর আগে ইরান শিবিরে আত্মবিশ্বাসের বড় উৎস হতে পারে এই ড্র। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়িয়ে পয়েন্ট আদায় করার মানসিকতা দলটিকে নকআউট পর্বের লড়াইয়ে বাড়তি শক্তি জোগাবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আর মাঠের বাইরের বিতর্ক যতই থাকুক, আপাতত ইরানের লক্ষ্য একটাই-বিশ্বকাপে নিজেদের যাত্রাকে আরও দীর্ঘ করা।


সম্পর্কিত নিউজ