{{ news.section.title }}
২০২৬ বিশ্বকাপের শীর্ষে রোনালদো, মেসি কোথায়?
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর। প্রতি চার বছর অন্তর আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে বিশ্বের সেরা ফুটবলাররা লড়াই করেন খেলাটির সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ট্রফি জয়ের লক্ষ্যে। তবে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ শুধু গোল, অ্যাসিস্ট কিংবা ট্রফির লড়াইয়েই সীমাবদ্ধ নয়।
আধুনিক ফুটবলের তারকারা এখন বৈশ্বিক আইকনে পরিণত হয়েছেন, যাদের অনুসরণ করেন কোটি কোটি ভক্ত। ম্যাচের সেরা মুহূর্ত, অনুশীলনের ভিডিও, পারিবারিক ছবি কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের ছোটখাটো আপডেট-সবকিছুই মুহূর্তেই পৌঁছে যায় ভক্তদের কাছে। ফলে মাঠের বাইরেও তাদের প্রভাব বিস্তৃত।
সোশ্যাল মিডিয়ার উত্থান খেলোয়াড় ও সমর্থকদের সম্পর্ককে আমূল বদলে দিয়েছে। এখন একটি পোস্টই কখনও কখনও টেলিভিশন সম্প্রচার কিংবা প্রচলিত সংবাদমাধ্যমের চেয়েও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। এই বিশাল জনপ্রিয়তা ফুটবলের শীর্ষ তারকাদের ব্র্যান্ড ও স্পনসরদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান করে তুলেছে। এমনও কয়েকজন খেলোয়াড় আছেন, যাদের সোশ্যাল মিডিয়া অনুসারীর সংখ্যা বিশ্বের অনেক দেশের মোট জনসংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে চলুন দেখে নেওয়া যাক এমন ১০ জন ফুটবলারের নাম, যারা মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াতেও নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছেন।
১০. হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড)
আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া অনুসারী: ৪৫ মিলিয়নের বেশি (ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, এক্স ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে)
ইনস্টাগ্রাম অনুসারী: ১৮ মিলিয়নের বেশি
আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলারের বেশি
ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন বর্তমানে দেশটির অন্যতম জনপ্রিয় ক্রীড়া তারকা। তুলনামূলকভাবে কিছু তরুণ তারকার চেয়ে তার সোশ্যাল মিডিয়া অনুসারী কম হলেও, বিভিন্ন ব্র্যান্ড তার বাণিজ্যিক মূল্যকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। স্কেচার্স ও ক্যাডবেরিসহ একাধিক ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার দীর্ঘমেয়াদি এন্ডোর্সমেন্ট চুক্তি রয়েছে।
৯. লামিন ইয়ামাল (স্পেন)
আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া অনুসারী: ৫০ মিলিয়নের বেশি
ইনস্টাগ্রাম অনুসারী: ৩৫ মিলিয়নের বেশি
আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ৮ থেকে ১২ মিলিয়ন ডলারের বেশি
অল্প বয়সেই লামিন ইয়ামাল ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আলোচিত নাম হয়ে উঠেছেন। বার্সেলোনা ও স্পেন জাতীয় দলের হয়ে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তাকে বিপুল জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে। লাখো ভক্ত তার ক্যারিয়ারের প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করছেন। খেলার ধারাবাহিক উন্নতি বজায় রাখতে পারলে আগামী বিশ্বকাপের আগেই তিনি ফুটবলের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক ব্র্যান্ডে পরিণত হতে পারেন।
৮. আর্লিং হালান্ড (নরওয়ে)
আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া অনুসারী: ৭০ মিলিয়নের বেশি
ইনস্টাগ্রাম অনুসারী: ৪০ মিলিয়নের বেশি
আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ১৫ মিলিয়নের বেশি ডলার
নরওয়ের গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড শুধু তার গোল করার ক্ষমতার জন্যই নয়, বরং প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্ব এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় শক্তিশালী উপস্থিতির কারণেও ব্যাপক জনপ্রিয়। নাইকি ও বিটস বাই ড্রে-এর মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড তার সঙ্গে কাজ করছে। মাঠে যেমন তিনি একের পর এক রেকর্ড গড়ছেন, তেমনি বাড়ছে তার বৈশ্বিক ভক্তসংখ্যাও।
৭. জুড বেলিংহাম (ইংল্যান্ড)
আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া অনুসারী: ৬০ মিলিয়নের বেশি
ইনস্টাগ্রাম অনুসারী: ৪০ মিলিয়নের বেশি
আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি
ইংল্যান্ড ও রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ড তারকা জুড বেলিংহাম অল্প সময়েই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর তার জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে। অ্যাডিডাসের সঙ্গে তার বড় এন্ডোর্সমেন্ট চুক্তি রয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত তাদের ফুটবল প্রচারণায় তাকে ব্যবহার করে।
মাত্র ২২ বছর বয়সেই তিনি নিজস্ব একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ড পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। অ্যাডিডাস, পেপসি এবং ভোডাফোনের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার চুক্তি রয়েছে। পাশাপাশি তার বিনয়ী আচরণ ও ব্যক্তিত্ব বিশ্বজুড়ে সমর্থকদের কাছে তাকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
৫. ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (ব্রাজিল)
আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া অনুসারী: ৮০ মিলিয়নের বেশি
ইনস্টাগ্রাম অনুসারী: ৫৫ মিলিয়নের বেশি
আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ১৫ মিলিয়নের বেশি ডলার
ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারের কাতারে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। তার গতি, ড্রিবলিং দক্ষতা এবং রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ধারাবাহিক সাফল্য তাকে কোটি কোটি সমর্থক এনে দিয়েছে। তার জনপ্রিয়তার কারণে নাইকি ও একাধিক বিলাসবহুল ব্র্যান্ড তার সঙ্গে অংশীদারত্ব করেছে। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে তার পারফরম্যান্স যত উজ্জ্বল হচ্ছে, ততই বাড়ছে তার অনুসারীর সংখ্যাও।
৪. কিলিয়ান এমবাপে (ফ্রান্স)
আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া অনুসারী: ২০০ মিলিয়নের বেশি
ইনস্টাগ্রাম অনুসারী: ১২৫ মিলিয়নের বেশি
আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ২৫ থেকে ৩০ মিলিয়ন ডলার বা তারও বেশি
কিলিয়ান এমবাপে তার অসাধারণ পারফরম্যান্স, অসংখ্য গোল এবং ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালে করা হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে বিশাল এক ভক্তগোষ্ঠী গড়ে তুলেছেন।
নাইকি, হাবলো এবং ওকলির মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড তার সঙ্গে কাজ করছে। তিনি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের একজন। বয়স এখনও তার পক্ষে, ফলে তার ক্যারিয়ার যেমন এগোচ্ছে, তেমনি বাড়ছে তার জনপ্রিয়তা ও অনুসারীর সংখ্যাও।
৩. নেইমার (ব্রাজিল)
আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া অনুসারী: ৪৫০ মিলিয়নের বেশি
ইনস্টাগ্রাম অনুসারী: ২৩ কোটি বা ২৩০ মিলিয়নের বেশি
আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ৩০ মিলিয়ন ডলারের বেশি
বিশ্ব ফুটবলে নেইমারের মতো জনপ্রিয়তা খুব কম খেলোয়াড়ই অর্জন করতে পেরেছেন। ক্যারিয়ারে বিভিন্ন সময়ে চোট তার অগ্রযাত্রাকে কিছুটা ধীর করলেও, তার জনপ্রিয়তায় তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। ব্রাজিলিয়ান এই সুপারস্টার এখনও অনলাইনে ব্যাপক সাড়া ফেলেন এবং পুমা, রেড বুলসহ একাধিক আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। মাঠে ও মাঠের বাইরে তার উপস্থিতি সমানভাবে আলোচিত।
২. লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা)
আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া অনুসারী: ৮০ কোটির বেশি
ইনস্টাগ্রাম অনুসারী: ৫০.৫ থেকে ৫১ কোটি
আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ৫ কোটি ডলারের বেশি
লিওনেল মেসি এখনও বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী ক্রীড়াবিদদের একজন। ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতানোর পর তার জনপ্রিয়তা আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। অ্যাডিডাস, পেপসি, অ্যাপল এবং হার্ড রকের মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে তার এন্ডোর্সমেন্ট চুক্তি রয়েছে, যা ফুটবলের বাইরেও তার আয়ের বড় উৎস। অনেকের ধারণা, ২০২৬ বিশ্বকাপই হতে পারে মেসির শেষ বিশ্বকাপ। ফলে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের নজর থাকবে তার প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর।
১. ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল)
আনুমানিক সোশ্যাল মিডিয়া অনুসারী: ১.১ বিলিয়নের বেশি
ইনস্টাগ্রাম অনুসারী: ৬৬৫ মিলিয়নের বেশি
আনুমানিক বার্ষিক এন্ডোর্সমেন্ট আয়: ৬০ মিলিয়ন ডলারের বেশি
সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব ও জনপ্রিয়তার দিক থেকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এককভাবেই শীর্ষে অবস্থান করছেন। কোনো ক্রীড়াবিদ এখন পর্যন্ত তার মতো বিশাল অনলাইন অনুসারী গড়ে তুলতে পারেননি। ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, এক্স এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে তার মোট অনুসারীর সংখ্যা ১.১ বিলিয়ন অতিক্রম করেছে। শুধু ইনস্টাগ্রামেই তার অনুসারীর সংখ্যা বিশ্বের অনেক দেশের মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি।
নাইকি, বাইন্যান্স, ক্লিয়ার এবং তার নিজস্ব সিআরসেভেন ব্যবসায়িক ব্র্যান্ড থেকে তিনি নিয়মিত বিপুল পরিমাণ আয় করেন। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ২০২৬ বিশ্বকাপে তিনি কতটা আলো ছড়াতে পারবেন, তা সময়ই বলে দেবে। তবে জনপ্রিয়তার শীর্ষ আসনে যে এখনও তিনিই রয়েছেন, তা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই।