{{ news.section.title }}
বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর স্কটল্যান্ডের কোচের পদত্যাগ
২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে স্কটল্যান্ডের বিদায়ের পর প্রধান কোচ স্টিভ ক্লার্ক পদত্যাগ করেছেন। ব্রাজিলের কাছে ৩-০ গোলের পরাজয়ের পর নকআউট পর্বে ওঠার ক্ষীণ আশা বেঁচে থাকলেও ঘানার বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়ার ২-১ গোলের জয়ের মাধ্যমে সেই সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায়। বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হওয়ার পরপরই দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন স্কটল্যান্ডের এই কোচ।
স্কটিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এসএফএ) এক বিবৃতিতে ক্লার্কের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। কয়েকদিন আগেই তিনি স্কটল্যান্ডের সঙ্গে নতুন করে চার বছরের চুক্তি করেছিলেন। তবে বিশ্বকাপে হতাশাজনক ফলের পর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
বিদায়ী বার্তায় স্টিভ ক্লার্ক বলেন, “এই বিদায়ের সবচেয়ে আবেগঘন অংশ হলো আমার খেলোয়াড়দের ছেড়ে যাওয়া। ২০১৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত আমরা একসঙ্গে যে স্মৃতিগুলো তৈরি করেছি, তা তাদের ছাড়া সম্ভব হতো না।”
তিনি আরও বলেন, “তারা যে ভালোবাসা ও সম্মান পায়, সেটি তারা প্রাপ্য। তাদের কোচ হতে পারা আমার জন্য বড় সম্মানের ছিল। আমাকে এই দায়িত্ব দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ এবং আমার উত্তরসূরির জন্য শুভকামনা।”
সাত বছর আগে স্কটল্যান্ড জাতীয় দলের দায়িত্ব গ্রহণ করেন স্টিভ ক্লার্ক। তার আগে ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপের পর দীর্ঘ সময় কোনো বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে জায়গা করে নিতে পারেনি দলটি। ক্লার্কের অধীনে স্কটল্যান্ড টানা দুটি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে।
তবে বড় মঞ্চে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি দলটি। তিনটি বড় টুর্নামেন্ট মিলিয়ে স্কটল্যান্ড মাত্র একটি জয় পেয়েছে। চলতি বিশ্বকাপে হাইতির বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে জয়ই ছিল তাদের একমাত্র সাফল্য।
বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ায় সমর্থক এবং ফুটবল সংশ্লিষ্টদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। তবে অনেকেই মনে করেন, স্কটিশ ফুটবলের পুনর্জাগরণে ক্লার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
স্কটিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী ইয়ান ম্যাক্সওয়েল বলেন, “বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ায় আমরা হতাশ। কিন্তু স্টিভ ক্লার্কের সাত বছরের দায়িত্বকালে স্কটল্যান্ড যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে, তা ভুলে গেলে চলবে না।”
স্টিভ ক্লার্কের বিদায়ের মাধ্যমে স্কটল্যান্ড জাতীয় দলে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। এখন নতুন কোচের অধীনে দলকে নতুনভাবে গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে স্কটিশ ফুটবল।