কম খরচে যাতায়াতের সমাধান কি ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল?

কম খরচে যাতায়াতের সমাধান কি ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল?
ছবির ক্যাপশান, কম খরচে যাতায়াতের সমাধান কি ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল?

দেশে জ্বালানি সংকটের প্রভাব সরাসরি পড়ছে পরিবহন খাতে-আর সেই সুযোগে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল বা ই-বাইক। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে এই বাহনের বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

বিক্রিতে হঠাৎ উল্লম্ফন


চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যেখানে ই-বাইক বিক্রি হয়েছিল ২ হাজার ১৯৫টি, মার্চে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৫৬১টিতে। অর্থাৎ এক মাসেই প্রায় ১৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। বছরের প্রথম তিন মাসে মোট বিক্রি হয়েছে ৬ হাজার ৫৩২টি-জানুয়ারিতে ১ হাজার ৭৭৬টি, ফেব্রুয়ারিতে ২ হাজার ১৯৫টি এবং মার্চে ২ হাজার ৫৬১টি।


ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতায় বড় পরিবর্তন


রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার বাসিন্দা স্থপতি হাসান শাহরিয়ার খান দীর্ঘদিন জ্বালানিচালিত গাড়ি ব্যবহারের পর সম্প্রতি একটি ই-বাইক কিনেছেন। তার মতে, প্রতি কিলোমিটারে খরচ ২০ পয়সারও কম, যেখানে আগে জ্বালানির লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। এখন একবার চার্জে ১০০ কিলোমিটারের বেশি পথ অতিক্রম করা সম্ভব হচ্ছে।


বাজারে চাহিদা বাড়ার বাস্তব চিত্র


মোহাম্মদপুর এলাকায় একটি বিক্রয়কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ফেব্রুয়ারিতে যেখানে ৩২টি ই-বাইক বিক্রি হয়েছিল, মার্চে তা বেড়ে ৪৫টিতে পৌঁছেছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহেই বিক্রি হয়েছে ২১টি। বিক্রয়কর্মীদের ভাষ্য, হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় স্টক দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে।


কেন বাড়ছে ই-বাইকের জনপ্রিয়তা
ব্যবহারকারীদের মতে-
•    প্রতি কিলোমিটারে খরচ মাত্র ১৫–২০ পয়সা 
•    জ্বালানিচালিত বাইকে খরচ ২–৩ টাকা 
•    রক্ষণাবেক্ষণ কম 
•    পরিবেশবান্ধব 
•    ব্যাটারির ওপর নির্ভর করে ১৫০–২০০ কিলোমিটার চলাচল সক্ষমতা 
এই সুবিধাগুলোর কারণে বিশেষ করে শহরে স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতে ই-বাইক হয়ে উঠছে কার্যকর বিকল্প।


দেশীয় ও বিদেশি ব্র্যান্ডের প্রতিযোগিতা


বাংলাদেশে বর্তমানে চীনা ব্র্যান্ড Yadea ও Revo বাজারের বড় অংশ দখল করে আছে। পাশাপাশি Walton–এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ডিজি-টেক ‘ট্যাকিয়ন’ নামে ই-বাইক উৎপাদন করছে। তারা ৭টি মডেল বাজারে এনেছে, যেগুলোর দাম ৮৯ হাজার থেকে ১ লাখ ৭২ হাজার টাকার মধ্যে।
ওয়ালটনের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে তাদের বিক্রি ছিল প্রায় ২০০ ইউনিট, যা মার্চে বেড়ে প্রায় ৪০০-তে পৌঁছেছে-প্রায় ৮০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।

 

আরো পড়ুন : স্বর্ণের দাম আজ বাড়লো না কমলো? বিস্তারিত জানুন


আমদানি ও বাজার সম্প্রসারণ
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড–এর তথ্যে দেখা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ৭ হাজার ৬৫৮টি ই-বাইক আমদানি হয়েছে, যার মূল্য প্রায় ৩৬ কোটি টাকা। পরবর্তী বছরে একই সময়ে আমদানি বেড়ে ১২ হাজার ৩৩০টিতে পৌঁছেছে-মূল্য প্রায় ৬২ কোটি টাকা। অর্থাৎ আমদানিতে বেড়েছে ৬১ শতাংশের বেশি।
দেশে বর্তমানে ১০টির বেশি প্রতিষ্ঠান ই-বাইক আমদানি, সংযোজন ও বিপণন করছে। বাজারে ওয়ালটন, আকিজ, আইমা, সালিদা ও টেইলজি ব্র্যান্ডও সক্রিয়। দাম ব্র্যান্ড ও মডেলভেদে ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত।


সামনে সম্ভাবনা 
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি সংকট ই-বাইকের চাহিদা বাড়ালেও এখনো দেশের মোট মোটরসাইকেল বাজারে এর অংশ মাত্র ৩ শতাংশ। চার্জিং অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, ব্যাটারির মান ও দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়েছে।
তবুও, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেলের ব্যবহার আরও বাড়বে-এমনটাই মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

 


সম্পর্কিত নিউজ