নিয়ম ভাঙার অভিযোগে শাস্তির মুখে গুগল

নিয়ম ভাঙার অভিযোগে শাস্তির মুখে গুগল
ছবির ক্যাপশান, নিয়ম ভাঙার অভিযোগে শাস্তির মুখে গুগল
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল বাজার আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়তে পারে প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল। ইউরোপীয় কমিশন গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের বিরুদ্ধে কয়েকশ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রীষ্মকালীন বিরতির আগেই আসতে পারে।

ইউরোপীয় ডিজিটাল বাজার আইন বা ডিএমএ মূলত বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বাজার আধিপত্য নিয়ন্ত্রণ, প্রতিযোগিতা বাড়ানো এবং ব্যবহারকারী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে করা হয়েছে। এই আইনের আওতায় গুগল, অ্যাপল, মেটা, অ্যামাজন, মাইক্রোসফটসহ বড় প্ল্যাটফর্মগুলোকে ‘গেটকিপার’ হিসেবে বিবেচনা করে বিশেষ নিয়ম মানতে বলা হয়েছে।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, গুগল সার্চ ফলাফলে নিজেদের সেবা ও পণ্যকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। বিশেষ করে শপিং, হোটেল বুকিং, ট্রাভেল ও স্থানীয় সার্চ সেবার ক্ষেত্রে গুগলের নিজস্ব সেবাগুলোকে সুবিধাজনক অবস্থানে দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, এই ধরনের আচরণ বাজারে ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিপন্থী।

 

শুধু সার্চ ফলাফল নয়, গুগল প্লে নিয়েও আপত্তি তুলেছে ইউরোপীয় কমিশন। অভিযোগে বলা হয়েছে, অ্যাপ ডেভেলপারদের ব্যবহারকারীদের বিকল্প পেমেন্ট ব্যবস্থা বা অন্য প্ল্যাটফর্মে নেওয়ার সুযোগ সীমিত করা হয়েছে। এর ফলে ব্যবহারকারী ও ডেভেলপার উভয় পক্ষই গুগলের প্ল্যাটফর্মনির্ভর ব্যবস্থার মধ্যে আটকে পড়ছে বলে মনে করছে কমিশন।

 

২০২৫ সালের মার্চে অ্যালফাবেটের বিরুদ্ধে দুটি প্রাথমিক অভিযোগ পাঠায় ইউরোপীয় কমিশন। সেখানে গুগল সার্চে স্ব-পক্ষপাত বা নিজস্ব সেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং গুগল প্লেতে অ্যাপ ডেভেলপারদের বিকল্প পথ দেখানোর সুযোগ সীমিত করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। কমিশনের মতে, অ্যালফাবেট ডিএমএর বাধ্যবাধকতা যথাযথভাবে পালন করছে না।

 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ম অনুযায়ী, ডিজিটাল বাজার আইন লঙ্ঘন প্রমাণিত হলে কোনো প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক বার্ষিক আয়ের ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা যেতে পারে। একই ধরনের অপরাধ পুনরাবৃত্তি হলে জরিমানার পরিমাণ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে গুগলের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য জরিমানা কয়েকশ মিলিয়ন ইউরোর মধ্যে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

গুগল অবশ্য কমিশনের অবস্থানের বিরোধিতা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ইউরোপীয় নির্দেশনা মেনে সার্চ সেবায় পরিবর্তন আনা হলেও তা ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। গুগলের মতে, এসব পরিবর্তনের ফলে ব্যবহারকারীরা দ্রুত ও কার্যকর তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে আগের মতো সুবিধা পাচ্ছেন না।

 

ইউরোপে গুগলের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা আইন নিয়ে চাপ নতুন নয়। এর আগেও সার্চ, অ্যান্ড্রয়েড ও বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি খাতে প্রতিষ্ঠানটিকে বড় অঙ্কের জরিমানা গুনতে হয়েছে। তবে ডিজিটাল বাজার আইনের আওতায় সম্ভাব্য এই জরিমানা গুগলের জন্য নতুন ধরনের নিয়ন্ত্রক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

 

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু গুগলের জন্য নয়, পুরো বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন যদি কঠোর অবস্থানে থাকে, তাহলে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে ব্যবসায়িক মডেল, সার্চ অ্যালগরিদম, অ্যাপ মার্কেটপ্লেস ও ব্যবহারকারী পছন্দের সুযোগ নিয়ে আরও স্বচ্ছ হতে হবে।

 

সব মিলিয়ে গুগলের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য জরিমানা ইউরোপে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রণে নতুন অধ্যায় তৈরি করতে পারে। এখন নজর ইউরোপীয় কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।


সম্পর্কিত নিউজ