{{ news.section.title }}
বুর্জ খলিফার চেয়েও বেশি খরচে তৈরি ‘জিটিএ সিক্স’!
এক যুগেরও বেশি প্রতীক্ষার পর অবশেষে মুক্তির পথে বহুল আলোচিত ভিডিও গেম ‘গ্র্যান্ড থেফট অটো সিক্স’ বা ‘জিটিএ সিক্স’। গেমপ্রেমীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রকস্টার গেমস জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১৯ নভেম্বর বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাবে এই গেম। মুক্তির আগেই গেমটির নির্মাণ ব্যয় নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
গেমিং শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, ‘জিটিএ সিক্স’ তৈরিতে ব্যয় হতে পারে ১৫০ থেকে ২০০ কোটি মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১৮ থেকে ২৪ হাজার কোটি টাকা। যদিও রকস্টার গেমস আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যয়ের তথ্য প্রকাশ করেনি, তবুও বিভিন্ন শিল্প বিশ্লেষণ ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে এমন ধারণা উঠে এসেছে।
এই সম্ভাব্য ব্যয়কে বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল বিনোদন প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তুলনামূলকভাবে বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন বুর্জ খলিফা নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ১৫০ কোটি ডলার। ফলে সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী, ‘জিটিএ সিক্স’-এর নির্মাণ ব্যয় বুর্জ খলিফাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
শুধু অর্থের দিক থেকেই নয়, সময়ের হিসাবেও এই গেমটি একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ। ২০১৩ সালে ‘জিটিএ ফাইভ’ মুক্তির পর থেকেই নতুন সংস্করণের অপেক্ষা শুরু হয়। গেমটির পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন ও নির্মাণে ১২ বছরেরও বেশি সময় ব্যয় হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক গেম উন্নয়নে এখন শুধু প্রোগ্রামিং নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বাস্তবধর্মী গ্রাফিক্স, ভয়েস অভিনয়, অ্যানিমেশন, মোশন ক্যাপচার এবং বিশাল ভার্চুয়াল পরিবেশ তৈরিতে বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন হয়। ‘জিটিএ সিক্স’-এর ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।
গেমটির প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। রাস্তার যানবাহন, পরিবেশ, আলো-ছায়ার ব্যবহার, আবহাওয়া এবং চরিত্রগুলোর আচরণকে বাস্তবের কাছাকাছি নিয়ে যেতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে গেমটির বিপণন ও প্রচারণার জন্যও বড় বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। গেমিং বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শুধু বিক্রির প্রথম কয়েক দিনেই নির্মাণ ব্যয়ের বড় অংশ উঠে আসতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘জিটিএ ফাইভ’ মাত্র তিন দিনের মধ্যে ১০০ কোটি ডলারের বেশি আয় করে ইতিহাস গড়েছিল। পরবর্তী এক দশকে অনলাইন গেমিং ও ইন-গেম কেনাকাটার মাধ্যমে গেমটি কয়েক বিলিয়ন ডলার আয় করেছে।