রৌমারী সীমান্তে ৭২ ঘণ্টা পেরিয়েও শূন্যরেখায় ৯ জন, ফেরত নেয়নি বিএসএফ

রৌমারী সীমান্তে ৭২ ঘণ্টা পেরিয়েও শূন্যরেখায় ৯ জন, ফেরত নেয়নি বিএসএফ
ছবির ক্যাপশান, রৌমারী সীমান্তে ৭২ ঘণ্টা পেরিয়েও শূন্যরেখায় ৯ জন

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পুশইনের চেষ্টার শিকার হওয়া নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ৯ জন এখনও সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। ঘটনার ৭২ ঘণ্টার বেশি সময় পার হলেও তাদের নিজেদের হেফাজতে ফেরত নেয়নি বিএসএফ।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (১৪ জুন) ভোরে রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে ছয়জন এবং ইজলামারী সীমান্ত দিয়ে আরও তিনজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত বিজিবি সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

 

এরপর থেকেই ওই ৯ জন সীমান্তের শূন্যরেখা এলাকায় অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশু রয়েছে বলে জানা গেছে। সীমান্তের অনিশ্চিত পরিবেশে মানবেতর পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

 

ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবি পুশইনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিএসএফের মাধ্যমে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি তোলে।

 

তবে বৈঠকে বিএসএফ পুশইনের অভিযোগ অস্বীকার করে। একই সঙ্গে শূন্যরেখায় অবস্থানরত ব্যক্তিদের নিজেদের হেফাজতে ফিরিয়ে নিতেও অস্বীকৃতি জানায়। ফলে বিষয়টির কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান হয়নি।

 

বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে অবস্থানরত ৯ জনের বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। মানবিক দিক বিবেচনায় বিষয়টির দ্রুত সমাধান চাইলেও এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি হয়নি।

 

সীমান্ত এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যেও এ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দীর্ঘ সময় ধরে নারী ও শিশুদের শূন্যরেখায় অবস্থান করতে হওয়ায় মানবিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান দাবি করেছেন।

 


সম্পর্কিত নিউজ