{{ news.section.title }}
সিলেটে হাম-নিউমোনিয়ায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু
সিলেট বিভাগে হাম ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৫৬ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফলে বিভাগজুড়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত বিভাগের সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ২৮৪ জন সন্দেহজনক হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আক্রান্তদের বেশিরভাগই শিশু।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া তিন শিশুই হামের উপসর্গের পাশাপাশি নিউমোনিয়াজনিত জটিলতায় ভুগছিল। তাদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে এবং বাকি দুজন মারা গেছে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
মৃত শিশুদের মধ্যে রয়েছে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মুরাদপুর গ্রামের মো. রুমেন মিয়ার ছয় মাস বয়সী ছেলে রাইয়ান। এছাড়া সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার পাঁচ মাস বয়সী শিশু তাউসিফ ইসলাম এবং সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার সাত মাস বয়সী কন্যাশিশু আমায়রা জান্নাতও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ৩২৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা সুনামগঞ্জ জেলায়, যেখানে ১৭৮ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। সিলেট জেলায় আক্রান্ত ১০৫ জন, হবিগঞ্জে ২৪ জন এবং মৌলভীবাজারে ১৬ জন। হবিগঞ্জের আক্রান্তদের মধ্যে দুজনের শরীরে রুবেলাও শনাক্ত হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া ৫৬ রোগীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৩ জন ভর্তি হয়েছেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। এছাড়া এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৬ জন, মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ২ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ২ জন এবং রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে একজন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২৮৪ রোগীর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে রয়েছে ৯৪ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯১ জন এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৪০ জন। এছাড়া নর্থ ইস্ট হাসপাতাল, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতাল, পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বাকি রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিভাগে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম ও এর জটিলতায় মোট ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে সর্বোচ্চ ৩০ জন, সিলেটে ২৫ জন, মৌলভীবাজারে ৯ জন এবং হবিগঞ্জে ৬ জন মারা গেছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম সাধারণত একটি প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক রোগ হলেও অপুষ্টি, টিকাদানের ঘাটতি এবং নিউমোনিয়ার মতো জটিলতা দেখা দিলে শিশুদের জন্য এটি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। তাই শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা, উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া এবং আক্রান্তদের আলাদা রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম বলেন, “হামের উপসর্গ ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৫৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।”