{{ news.section.title }}
চবিতে ডিএনএ আবিষ্কারের ৭৩ বছর উদযাপন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত হয় ডিএনএ আবিষ্কারের ৭৩তম বার্ষিকী উপলক্ষে ‘ডিএনএ ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’ । আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল ) বিভাগের কনফারেন্স রুমে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এই উৎসবমুখর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোঃ কামাল উদ্দিন ও জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. গোলাম কিবরিয়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. লায়লা খালেদা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেন, “৭৩ বছরের বেশি সময় আগে ডিএনএ আবিষ্কার হয়েছে। তখন মানুষ ধারণা করেছিল ডিএনএ নিয়েই কাজ করতে হবে। কিন্তু পরবর্তীতে মানুষ জানতে পারল যে ডিএনএ এর আরেকটা রুপ হচ্ছে আরএনএ। এখন গবেষকরা আরএনএ নিয়ে গবেষণা করছে। এজন্য এখন সব প্রতিষেধকগুলো আরএনএ এর ওপর ভিত্তি করে বানানো হচ্ছে। এজন্য আমাদেরকে আরএনএ এর ওপর ভিত্তি করে গবেষণা করা উচিত।”
তিনি আরও বলেন , এ বিভাগের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে এবং সামনে আরও রচিত হবে। এ গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রচনার কারিগর হচ্ছেন এ বিভাগের শিক্ষকরা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম, সম্মান বৃদ্ধিতে এ বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, সামনে আরও করবে। তিনি শিক্ষকদের গবেষণায় আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)
অধ্যাপক ড. মোঃ কামাল উদ্দিন বলেন, “ডিএনএ টেস্ট করা নিয়ে সবার মধ্যে একটা নেতিবাচক ধারণা ছিল। সেই নেতিবাচক ধারণা ভেঙে দিয়েছে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে জটিল রোগ নির্ণয় সম্ভব হচ্ছে। চিকিৎসা ক্ষেত্রে ডিএনএ টেস্ট গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। আমাদের অনেক সমস্যার সমাধান হচ্ছে ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে। এছাড়া অপরাধী সনাক্ত করতেও ডিএনএ পরীক্ষা করা প্রয়োজন হচ্ছে। সেটা হচ্ছে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে।” তিনি ডিএনএ নিয়ে আরও গভীরভাবে গবেষণার প্রত্যাশা করেন ।
এদিন সকাল ১০টায় ডিএনএ ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন করেন বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. লায়লা খালেদা। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, “ডিএনএ এর গঠন আবিষ্কারের মাধ্যমে মানবজীবনের রহস্য উন্মোচনে বিজ্ঞানীরা এক বিশাল অগ্রগতি সাধন করেছে।”
আয়োজনের মধ্যে ছিল পোস্টার এক্সিবিশন, ফটো এক্সিবিশন, কুইজ প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভাসহ নানা কার্যক্রম উপাচার্যসহ অতিথিবৃন্দ এসব ইভেন্টে বিজয়ীদের সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় এবং সম্মাননা প্রদান করা হয়।
ডিএনএ দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভায় ‘জিনস অ্যান্ড জাস্টিস: জেনোমিক সার্ভেইল্যান্স অ্যাজ এ পিলার অব পাবলিক হেলথ সিকিউরিটি’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অনুষ্ঠানের কি-নোট স্পিকার সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. তাহমিনা শিরিন। তিনি জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তায় জেনোমিক নজরদারির গুরুত্ব এবং আইনি কাঠামোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোকপাত করেন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চীনের বিজিআই জেনোমিকসের প্রতিনিধি কাই হুয়াং হেনরি। তিনি ‘মাল্টি-ওমিকস সলিউশনস ফর থেরাপিউটিকস অ্যান্ড ডায়াগনস্টিকস’ শীর্ষক বিষয়ের ওপর বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তব্যে তিনি আধুনিক চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয়ে মাল্টি-ওমিকস প্রযুক্তির বৈপ্লবিক ব্যবহার ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিভাগের অধ্যাপক ড. আদনান মান্নান। বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট গবেষকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। বক্তারা ডিএনএ আবিষ্কারের ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং বর্তমান বিশ্বে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন। ডিএনএ গবেষণার মাধ্যমে ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য ও বিজ্ঞান খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন বিভাগের শিক্ষার্থী শাইরিন জেবুন লাবিবা ও তাহিয়া তাবাসসুম।